বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রখ্যাত লেখক, গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে একটি রেস্টুরেন্টে খাবার গ্রহণের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক ফজলুল হক। পরে তাকে দ্রুত মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তার মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, দাফন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তা বিষয়ে তার গবেষণা ও প্রবন্ধ বিশেষভাবে সমাদৃত। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন, সাহিত্য চিন্তা এবং সংস্কৃতির সহজ কথা। এছাড়া তিনি ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং স্বদেশচিন্তাসহ একাধিক গ্রন্থ সম্পাদনা করেন।
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তার দুই সন্তান রয়েছে। তার মেয়ে ড. শুচিতা শরমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ছেলে ফয়সাল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন, যাকে ২০১৫ সালে জঙ্গিরা হত্যা করে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।