শিরোনাম :
হামের টিকা নিয়ে অবহেলার অভিযোগ, মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮, মোটরসাইকেলেই প্রাণ গেছে ১৩৪ জনের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্বে নতুন প্রত্যয় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাবে গড়ার পরিকল্পনা বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী মধ্যম শক্তি হিসেবে অবস্থান জোরদারে ব্রিকস-আসিয়ানসহ বিভিন্ন জোটে যোগ দিতে চায় বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হবে নতুন পে-স্কেল, প্রথমে বাড়বে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভাইরাল সিসিটিভিতে তোলপাড়

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮, মোটরসাইকেলেই প্রাণ গেছে ১৩৪ জনের

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

দেশে চলতি বছরের জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে মোট ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু রয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪৫টি, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৪ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩১ শতাংশ। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী এবং ৫৭ জন চালক ও পরিবহন-সহকারী নিহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায়। এসব দুর্ঘটনায় ১১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির দুর্ঘটনায় ৩৭ জন, বাস দুর্ঘটনায় ২৭ জন এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৫১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি শহরের সড়কে। ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০৯টি, পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ৯৭টি এবং সামনে থাকা যানবাহনের পেছনে ধাক্কা লেগে ৫৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৯ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৬ জন।

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুন মাসে ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২১টি রেল দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ ও অসুস্থ চালক, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও বেতনের অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

সংগঠনটি দুর্ঘটনা কমাতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে কার্যকর করা, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরি, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং নিরাপদ মহাসড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে।

সূত্র: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD