শিরোনাম :
সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল অরুণাচল: আকাশপথে বিপুল আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করল ভারত অগ্রহায়ণের আগেই পঞ্চগড়ে শীতের পদধ্বনি: তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নামল ১৫.৪ ডিগ্রিতে কক্সবাজার পর্যন্ত ছুটল মহানগর এক্সপ্রেস: ঢাকা ও মধ্যবর্তী জেলাবাসীর সৈকতযাত্রায় নতুন দিগন্ত টানা তিনবার কোপা ট্রফি জয়: ফুটবলের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিকের দাফনে বাধা ও গার্ড অব অনার অবমাননা: জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু: টোকিওতে সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠক হেব্রনে চতুর্থ দিনে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান: বাস্তুচ্যুত ২৬০০ ছাড়াল, গ্রেপ্তার ৭০ পারস্পরিক সুবিধা ও আস্থার ভিত্তিতে বহুমুখী সহযোগিতা গভীর করছে চীন ও বেলজিয়াম উত্তেজনার মুখে গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পসারীর দাফন সম্পন্ন

পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, হতে পারে ৩ মাসের কারাদণ্ড

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের প্রচলিত ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী, পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সন্তানের আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

আইন অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণপোষণের আওতায় শুধু খাদ্য বা অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সঙ্গ দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এ দায়িত্ব ভাগ করে নেবে। একই সঙ্গে পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোনো স্থানে থাকতে বাধ্য করা যাবে না। সন্তানদের নিয়মিত তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের আয় অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত তাদের প্রদান করতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় আরও বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে। এটিও আইন অনুযায়ী ভরণপোষণের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

৫(১) ধারায় ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধারায় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, ছেলে-মেয়ে বা নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা কিংবা দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণপোষণে বাধা সৃষ্টি করেন, তবে তাকেও একই অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, এই আইন বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তার মতে, আইনের ৩ ধারা পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দিয়েছে এবং ৫ ধারার শাস্তির বিধান দায়িত্বহীন সন্তানদের জন্য কঠোর বার্তা বহন করে।

তিনি আরও বলেন, ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্বও নিশ্চিত করা হয়েছে, যা তিন প্রজন্মের পারিবারিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। পাশাপাশি আইনের ৮ ধারায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে, ফলে আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণপোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধানও অসহায় প্রবীণদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ।

অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইনের মতে, এ আইন কেবল শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়; বরং সন্তানদের পারিবারিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যেই প্রণীত হয়েছে। আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা আরও নিশ্চিতভাবে পাবেন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD