কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষককে শনাক্ত করে উৎপাদন, ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং বাজার ব্যবস্থাপনাকে একই কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এসব খাতকে আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, সরকারের নীতি ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
মন্ত্রী জানান, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ব্যাংকগুলোকে সরকার সেই অর্থ পরিশোধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে খালের পানি ব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, কৃষি কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি জাতীয় ডিজিটাল কৃষক ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব কৃষক এ ব্যবস্থার আওতায় এলে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উর্বর ভূমি, অনুকূল জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা আরও বাড়ানো হবে। কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করেই দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
সভায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের অগ্রগতি নিয়ে পৃথক প্রেজেন্টেশনও উপস্থাপন করা হয়।