সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিনিময়ে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরাইল এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এবং সোমালিয়ায় ইসরাইলের কোনো ধরনের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না।
বুধবার তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বলেন, “আমরা কখনো ইসরাইলে আক্রমণ করিনি, কখনো তাদের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করিনি। আমরা চাই না ইসরাইল তাদের সমস্যা আমাদের অঞ্চলে নিয়ে আসুক।”
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, সোমালিল্যান্ড ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন এবং ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, সোমালিল্যান্ডকে তেলআবিবের স্বীকৃতি ছিল ‘খুবই অপ্রত্যাশিত ও অদ্ভুত’। তিনি জানান, ইসরাইলই প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ড আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে মোগাদিসু সরকার সোমালিল্যান্ডকে সোমালিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যেকোনো আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করে।
প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ আরও বলেন, ২০২০ সালে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোর মধ্যে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের বিষয়েও সম্মতি জানিয়েছে সোমালিল্যান্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও এডেন উপসাগরের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই ইসরাইল এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র ও ছবি : টিআরটি ওয়ার্ল্ড