উদীয়মান খাতগুলোতে ফিলিপাইনের বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
রোববার (৩ নভেম্বর) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় বাংলাদেশ–ফিলিপাইন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক পরামর্শ (এফপিসি) সভায় এ আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ছয় বছর পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। সভার যৌথ সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতি বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি মা. হেলেন বি. ডে লা ভেগা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ বিগত বছরগুলোর সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সুনীল অর্থনীতি, শিক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, শ্রমিক গতিশীলতা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
সভায় উভয় দেশ আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ইস্যুতেও মতবিনিময় করে। আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) পরিস্থিতি।
বৈঠক শেষে ১৯৭৮ সালের এসটিসিডব্লিউ কনভেনশন (সংশোধিত) অনুযায়ী সামুদ্রিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং ফিলিপাইনের পক্ষে মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি (মারিনা)-এর প্রশাসক সোনিয়া বি. মালালুয়ান।
পরামর্শ সভার পর ড. নজরুল ইসলাম ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা. তেরেসা পি. লাজারো ও অভিবাসী শ্রমিক বিষয়ক মন্ত্রী হ্যান্স লিও জে. কাকডাকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে, এ সংলাপ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–ফিলিপাইন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও ফলপ্রসূ করে তুলবে।