রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেল পিলারের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালাম আজাদ (৩৬) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খেজুরবাগান মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামে।
দুর্ঘটনার পর সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, আজাদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং পরিবারের একজন কর্মক্ষম সদস্যকে মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আজাদের পরিবারের সব দায়দায়িত্ব মেট্রোরেল গ্রহণ করবে।”
এ ঘটনায় সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
মেট্রোরেলের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, “ফার্মগেটের খেজুরবাগান মোড়ে নির্মাণ নকশায় ত্রুটি ছিল। এর আগেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। জাপানি ঠিকাদারদের সতর্ক করা হলেও তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর খামারবাড়ি এলাকায়ও একটি পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে মেট্রোরেল চলাচল ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। নির্মাণকালেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বিয়ারিং প্যাডের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করে।
এ দুর্ঘটনার পর মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং পরে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত আংশিকভাবে চালু করা হয়। মতিঝিল থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।
নিহত আবুল কালাম আজাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া, পাঁচ বছরের ছেলে আবদুল্লাহ এবং তিন বছরের মেয়ে সুরাইয়াকে রেখে তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পিয়া কাতর স্বরে বলেন, “আজ (কালামকে) আমি বিদায় দিতে চাইনি। এখন আমার বাচ্চাদের কী হবে?”
স্বজনরা অভিযোগ করেন, “সরকারি অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর দায় কেউ এড়াতে পারে না।”