বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, তিনি ঢাকায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আসা গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শুনানিতে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
শুনানিতে প্রদত্ত লিখিত বক্তব্যে ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যদি আমাকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়, আমি আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করব।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ, যা বৃহৎ প্রতিবেশীদের ছায়ায় থেকেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান শক্ত করছে।
ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলন ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা একটি সরকারের পতন ঘটিয়েছে। এখন দেশটি নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হতে চলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশিরা একটি নতুন দিক বেছে নিচ্ছে—একটি উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে। যুক্তরাষ্ট্র এই যাত্রাকে পুরোপুরি সমর্থন করে।”
ক্রিস্টেনসেন আশ্বাস দেন, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস দলকে নিয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলবেন, যাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হয়। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটেও তার বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।
২০ বছরেরও বেশি কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কাজ করার সুযোগ আগেও পেয়েছি। আমি জানি, এই দেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান একে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। দেশটি দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে এবং ‘এশিয়ার নতুন টাইগার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।”
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাড়ানো, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে তিনি কাজ করবেন।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, “বাংলাদেশ গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে। আমি নিজে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে তাদের দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করেছি।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় সবচেয়ে বড় অংশীদার। তবে তিনি মনে করেন, এই সহায়তা টেকসই নয়। তাই স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার একসঙ্গে কাজ করবে।
সূত্র: মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, সিনেট কমিটি শুনানি নথি।