মো. নজরুল ইসলাম, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় স্বামীর ছুড়ে মারা গরম পানিতে ঝলসে গেছে রেহেনা খাতুন নামে এক গৃহবধূর শরীর।
প্রথমে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে রেহেনা খাতুনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
জানা গেছে, ১৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে কোটচাঁদপুর উপজেলার সুয়াদী গ্রামের সোনা মিয়ার মেয়ে রেহেনা খাতুনের সাথে মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের মিনাজ উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে মাইক্রোবাস চালক আলম হোসেনের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় যৌতুকের কোনো দাবি ছিল না আলম হোসেনের। তবে সোনা মিয়া গরিব হলেও মেয়ের সুখের জন্য কয়েক দফায় প্রায় দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র দেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী আলম যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহেনার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। মেয়েকে নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য ১৮ বছরে বিভিন্ন সময়ে জামাই আলমের হাতে নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন সোনা মিয়া। এরপরও স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতন থামেনি।
গৃহবধূ রেহেনা বলেন, ‘সম্প্রতি বাবার কাছ থেকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে দেয়ার জন্য আমার স্বামী বায়না ধরে। এরই জের ধরে গেল ২৭ জুলাই বিকেলে ঠুনকো বিষয় নিয়ে আলম আমাকে বেধড়র মারপিট করে প্রায় অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখে। পরে চায়ের জন্য চুলায় থাকা গরম পানি এনে আমার শরীরে ঢেলে দেয়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে রেহেনার ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, ‘বোনকে কয়েকদিন হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করাই। আমরা গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা নেই। তাই চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়িতে আনতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বোনের এমন পরিস্থিতির জন্য ভগ্নিপতি আলমের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পাওয়ার সাথে সাথে আমলে নিয়েছি। জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’