শিরোনাম :
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রোডম্যাপ তৈরিতে ইউনেস্কোর সহায়তা কামনা তথ্যমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ৩ মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কো প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদীদের অতিসক্রিয়তা উদ্বেগজনক বন্ধ পাটকল চালু করলে অর্থনীতিতে গতি আসবে;বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যকর মাধ্যম: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সংশ্লিষ্টদের সেবকের ভূমিকা পালন করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বাংলাদেশ-সেনেগাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ

মোটর শ্রমিকের দখলে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৮ আগস্ট, ২০১৮

জার্মানবাংলা২৪ ডটকম, বিশেষ প্রতিবেদক: নিত্য যানজটের সঙ্গী যেন গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। চৌরাস্তার চারদিকে প্রতিদিনই থাকে দীর্ঘ যানজট। থাকে গাড়ির লম্বা লাইন। কখনো কখনো মোড় পার হতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই-আড়াই ঘণ্টা। চান্দনায় যানজটের অন্যতম কারণ মহাসড়কের এই মোড়ে যত্রতত্র পাকিং করা থাকে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ ও অন্যান্য মালবাহী যান। যেটি আইন বিরোধী।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পার্কিংয়ের জন্য নিয়মিত চাঁদাও তোলা হচ্ছে শ্রমিকদের কল্যাণের নাম ভাঙিয়ে। চান্দনা চৌরাস্তার পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গাজীপুর মহানগরের পণ্যবাহী পরিবহনের কোনো নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায়, বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর পার্কিং করতে হচ্ছে বলে স্বীকার করেন চালক ও শ্রমিকরা। গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কমপক্ষে এক হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ রয়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ পার্কিং করার প্রচলন আগে থেকেই রয়েছে। তবে সেটিকে একটি মহল টাকার লোভে জায়গা বাড়ানোর জন্য দখল করে নিচ্ছে সড়কের অংশ। আগে সড়কের পাশে পার্কিং করা হত আর এখন সড়কের ওপর পার্কিং করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে হস্তান্তরের পর থেকেই মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ পার্কিংয়ে জবরদখল দৃশ্যমান হয়ে উঠে।

ট্রাক চালক আব্দুল কাদির বলেন, অনেক আগে থেকেই গাজীপুরের রাজনৈতিক নেতারা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরীর পার্কিংয়ের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু অদ্যবধি কোনো জায়গা দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সড়কে পাকিং করা হচ্ছে।

চালক হাবিব বলেন, মহানগরের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সড়কের পাশের ড্রেন থেকে ময়লা আবর্জনা তুলে ফেলে রাখে। সেগুলো পথচারীদের চলাফেরার মাধ্যমেই সরে যায়। আবর্জনাগুলো বৃষ্টিতে কাদা হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে সয়লাব হয়। যে কারণে পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকে। এ অবস্থায় সড়কের পাশে পাকিংয়ের সুযোগ না থাকায় সড়ক দখলের ঘটনা ঘটছে।

দক্ষিণ সালনা এলাকার শ্যামলী গার্মেন্টস লিমিটেডের কাটিং সুপারভাইজার জামিল বলেন, মালামাল বহনকারী পরিবহন রাখার জায়গাতো সড়কের পাশে বা ওপরে নয়। এগুলো সড়কের ওপরে রাখার কারণে ফুটপাত দিয়ে পথচারী চলাচল করতে পারে না।

পথচারী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে দক্ষিণ সালানায় আসার পথে প্রায়ই যানজটে আটকা পড়েন। সড়কের ঢাকামুখী লেনটিতে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এসেছেন।

স্থানীয় খাদ্য বিক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, অনেক সময় উল্টোপথে যানবাহন আসার প্রয়োজন পড়ে। সেসময় সড়কে পার্কিং করা যানবাহনের কারণে সড়কের চাপ পড়ে ফুটপাতের ওপর। ফলে যত দুর্ভোগ পথচারীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন চালক, শ্রমিক বলেন, প্রতি মাসে গাড়ি প্রতি ২শ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়। মালামাল লোড আনলোডের জন্য গাড়ির প্রকৃতিভেদে ২০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব টাকা উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরীর জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় আগে থেকেই পরিবহনগুলো এখানে পার্কিং করতো। সেই থেকে এখনো পার্কিং হচ্ছে। তবে চাঁদা উত্তোলনের কোনো বিষয় এখানে নেই। আমরা এ বিষয়ে কিছু জানিও না।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি এ কে নাহীন রেজা বলেন, সড়কের ওপর ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরী পার্কিংয়ের কোনো অনুমতি তো দূরের কথা, সুযোগও নেই। মহাসড়কের ওপর এগুলো পার্কিং করে দুর্ভোগ তো সৃষ্টি করছেই, উপরন্তু সড়কে আবর্জনা ফেলায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এসব উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু পরক্ষণেই যে যার মতো পাকিংয়ে সড়ক দখলের প্রতিযোগীতায় নেমে সৃষ্টি করে দুর্ভোগ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD