জাহিদুল ইসলাম পুলক: রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের জনবহুল শহরগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সেচ্ছাসেবী কর্মী থাকলে বেপোরোয়া যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব বলে মনে করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজের সাবেক নির্বাচিত ভিপি এবং জার্মান প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম পুলক।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক চাই নামে ছাত্র-ছাত্রীরা যে আন্দোলন করেছে তার মাধ্যমে এর মাধ্যমে পরিবহন খাতের অন্যায়ের মুখোচ্ছবি উন্মোচিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার ও সরকার বিরোধীসহ সকলেই জানেন যে বাংলাদেশের ১ কিলোমিটার রাস্তায় একশত থেকে দেড়শ ট্রাফিক পুলিশ দিয়েও সম্ভব নয়। যা ছাত্র-ছাত্রীদের সততা এবং ঐক্যবদ্ধতায় করতে পেরেছে।
এ জন্য পরিবহনে নৈরাজ্য ঠেকাতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাতে সরকারের উচিত প্রত্যেক নগরীর স্কুল-কলেজগুলোকে বাধ্যতামূলক করে দেয়া হোক যেন প্রতিমাসে বা সপ্তাহে একবার ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সহযোগী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীরা সেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করে।
এছাড়া বাংলাদেশের ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মনে রাখতে হবে গালিগালাজ কিংবা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে পরিবহনের বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব নয়। বরং আইনের যথার্থ প্রয়োগের মাধ্যমেই এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব। ইউরোপ ও আমেরিকাসহ উন্নত রাষ্ট্রগুলো এর বড় প্রমান। ওইসব দেশে আইন প্রয়োগে যেমন কঠোরতা রয়েছে তেমনি নাগরিকরাও সঠিকভাবে আইন মেনে চলেন। যেকারণে উন্নত বিশ্বে সুশৃঙ্খল পরিবহন খাত।
আরেকটি বিষয় আমাদের স্বীকার করতেই হবে বাংলাদেশের অধিকাংশ যানবাহন রয়েছে ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রæটি, অদক্ষ ড্রাইভার ও হেলপার। যে বিষয়গুলো উন্নত দেশে নেই। এক্ষেত্রে সরকারকে অধিকতর গুরুত্ব দিবে হবে। যাতে কেউ ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রæটি ও অদক্ষ ড্রাইভার-হেলপার দিয়ে রাস্তায় গাড়ি নামাতে না পারেন। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে সড়কে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা কমে আসবে। কারণ একজন গাড়ীর ড্রাইভারও কখনো চায় না নিজের জীবন নিয়ে খেলতে। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যাইতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি তো বন্ধ করা সম্ভব না। দুর্ঘটনা ঘটবেই এটাই বাস্তবতা।