মোঃ নজরুল ইসলাম, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের ওসি এল এসডি সেলিম রেজার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভূক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কোটচাঁদপুরের ওসি এল এসডি সেলিম রেজা এলাকার তালিকাভূক্ত মিল মালিকদের নিকট থেকে চাল সংগ্রহ না করে খোলা বাজার থেকে খাবার অনুপযোগী এবং অনেক কম দামে চাল সংগ্রহ করে গুদামজাত করেছেন। এবং তালিকাভূক্ত মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করেন প্রতি কেজিতে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে ৩/৪ টাকা কম দামে।
ভূক্তভোগী কোটচাঁদপুরের মের্সাস বকুল অটো রাইচ মিলের মালিক মোঃ বকুল মিয়া জানান, মিল মালিকরা এই দামে চাল বিক্রয় করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি (সেলিম রেজা) বলেন, সরকারী নির্ধারিত চাল আমি গুদামে দিয়ে দিচ্ছি আপনারা প্রতি কেজিতে ২ (দুই) টাকা লাভ নিয়ে চুপচাপ চলে যান।
কোটচাঁদপুরের ২৬ জন মিল মালিকের মধ্যে ৫/৬ জনের সাথে সর্ম্পকে রেখে বাকি মিলারদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।লোক চক্ষুর আড়ালে রাতের অন্ধকারে গুদামে পুরাতন ও নিম্নমানের চাল ঢুকান।
তার এই দূর্নীতির কারনে প্রকৃত মিলমালিকরা অত্র এলাকায় চাতাল ব্যবসা করতে পারছে না। আমরা মিল মালিকরা তার এই অনৈতিক আচারণে জিম্মি হয়ে গেছি।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, মেসার্স বকুল অটো রাইস মিলার এর নিকট ৩৫৮ টন চাল বরাদ্দ থাকলেও তার কাছ থেকে ৩০০ টন চাল নিয়ে হাটগোপালপুরের খোলা বাজার থেকে বাকী ৫৮ টন নিম্ন-মানের চাল ক্রয় করে বরাদ্দ পূর্ণ দেখিয়েছেন এবং নাসির উদ্দিন বুলু মিয়ার নামে ১৬ টন ৪৪০ কেজি বরাদ্দের জায়গায় মাত্র ৫ টন ৪৪০ কেজি চাল ক্রয় করেন, বাকী চাল খোলা বাজার থেকে ক্রয় করে নাসির উদ্দিন বুলুর নামে দেখিয়েছেন।
এদিকে জালালপুরের আসাদুজ্জামান রাইচ মিল, কোটচাঁদপুরের জাহিদ হোসেন রাইচ মিল, সাফদারপুরের সেলিনা রাইচ মিল, এলাঙ্গীর হাজী রাইচ মিল, দুধসারার ময়না রাইচ মিল, কোটচাঁদপুর মেইন বাসস্ট্যান্ডের বল্টু রাইচ মিল এবং তালসারের পাঠান রাইচ মিলগুলোর নামে চাল ক্রয়ের বরাদ্দ দেখালেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কিছু মিলের বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নেই এবং কিছু মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এব্যাপারে কোটচাঁদপুরে ওসি এল এসডি সেলিম রেজার সাথে মুঠোফনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।