সম্পাদকীয় :
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫’ প্রতিবেদন আমাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এক উদ্বেগজনক সত্য সামনে এনে দিয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সেই পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম, যেখানে তীব্র খাদ্যসংকট ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা গভীর সংকটের মাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমাদের দেশে এখনও প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত ও সুষম খাবার থেকে বঞ্চিত। দেশবাসীর অন্তত দশ ভাগের বেশি অপুষ্টির শিকার। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে অবস্থান করছে। পাকিস্তানের পরই আমরা এই শূন্যস্থান পূরণে হিমশিম খাচ্ছি, যেখানে প্রতিবেশী ভারতও তুলনায় উন্নত অবস্থানে রয়েছে।
অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার এখন নেহাতই একটি দুরূহ স্বপ্ন, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা ও দেশীয় উন্নয়নের জন্য গভীর সংকেত। যদিও গত সাত বছরে খাদ্য নিরাপত্তায় কিছুটা উন্নতি ঘটেছে, তথাপি এই উন্নতির গতি যথেষ্ট নয় এবং মানুষের প্রয়োজন মেটাতে এখনও বহু দূর দূরান্ত বাকি।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন সময় এসেছে সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের একযোগে কৌশল গ্রহণের। খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, পুষ্টিমান সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো থেকে আমাদের শিখতে হবে, কিভাবে খাদ্য সংকট প্রতিরোধে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন করা যায়। না হলে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহতা আমাদের দেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে আনবে।
এখনই সময়, খাদ্যের প্রতিটি দিককে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার অঙ্গ হিসেবে দেখা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে সংকল্পবদ্ধ হওয়া। তাহলেই আমরা ভবিষ্যতের খাদ্য সংকট থেকে মুক্তি পেয়ে একটি সুস্থ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।