নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তির জুলাই যোদ্ধা গেজেট বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাইয়ের পর দেখা গেছে, অনেকেই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না বা আহত হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। নেত্রকোনার একই উপজেলার তিন যুবক যেমন জানালেন, তারা গেজেট পাওয়ার পরও ভাতা পাচ্ছেন না। জেলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত ১২৭ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০৪ জন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এছাড়া ২৩ জনের নাম একাধিকবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ বাতিলের সুপারিশ এসেছে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে, যেখানে ৩৯ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, বরিশাল ও রংপুর বিভাগ থেকে সবচেয়ে কম সংখ্যক বাতিলের সুপারিশ এসেছে।
গেজেট বাতিলের কারণ হিসেবে প্রধানত তিনটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে—প্রথম, আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা; দ্বিতীয়, আহত হওয়ার প্রমাণ না থাকা; এবং তৃতীয়, একাধিকবার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় জেলা কমিটি, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, “যাদের গেজেট বাতিল হয়েছে, তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। সব জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।” গত ১৭ জুন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। এরপর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত জেলা কমিটি নতুন আবেদন নেওয়া এবং আগের তালিকা যাচাই করার দায়িত্ব পালন করছে।
চলমান যাচাই প্রক্রিয়ার পেছনে উদ্দেশ্য স্পষ্ট—সরকার চায় প্রকৃতভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও আহতদের স্বীকৃতি এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা হোক। এই পদক্ষেপ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভবিষ্যতের ন্যায়সঙ্গত নীতি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রথমবারের মতো জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা এত বিস্তৃতভাবে যাচাই হচ্ছে, যা প্রমাণ করছে যে, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের ফলে প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের সঠিক স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হবে এবং অনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বন্ধ হবে।
সর্বশেষে বলা যায়, এই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থের বা প্রশাসনিক নীতির জন্য নয়; এটি জাতির ইতিহাসকে সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে সত্য ইতিহাস উপস্থাপন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটিগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এই কাজ সম্পন্ন করছে, যাতে জুলাই আন্দোলনের স্বীকৃতি প্রকৃতভাবে নিশ্চিত হয় এবং ন্যায়সঙ্গত কল্যাণ প্রদান সম্ভব হয়।
সূত্র: কালের কন্ঠ।