জার্মানবাংলা ডেস্ক : স্থানীয় সময় গত ১২ জুলাই (রবিবার) সন্ধ্যায় সিডনিস্থ ল্যাকেম্বা ক্লাবের বলরুমে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিল (এসপিএমসি) চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজ সেবক ও কাশেম নুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ চৌধুরী সিআইপিকে সংবর্ধনা প্রদান করে।
সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে পৌছলে সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের কার্যকরী পরিষদ ক্লাব লবিতে সম্মানিত অতিথি ও তার পরিবারবর্গকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে বলরুমে পৌঁছে হাসান মাহমুদ চৌধুরী কাউন্সিলের উপস্থিত সকল সদস্যদের সাথে পরিচিত হন।
ফজলে রাব্বির পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর এসপিএমসির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মেদ আবদুল মতিন ও শিবলি আবদুল্লাহর সঞ্চালনায় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। হালকা খাবার পরিবেশনের পর বড় পর্দায় সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের সামগ্রিক লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের উপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

তারপর এসপিএমসির সদস্যবর্গ তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
এনামুল হক ও মোহাম্মেদ আবদুল মতিন এসপিএমসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিডনিতে রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে তহবিল সংগ্রহ, দেশে নিহত সাংবাদিক শিমুল পরিবাকে সহায়তা প্রদান সহ কাউন্সিলের বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরেন।
রতন কুণ্ডু ও আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সম্মানিত অতিথি ও তার পরিবারবর্গকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সম্মানিত অতিথি হাসান মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তৃতায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে প্রবাসে সাংবাদিকরা জনমত গঠনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছিল। স্বাধীনতার পরের প্রজন্ম প্রবাসে বাংলা ভাষার চর্চার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় অবদান রাখছেন জেনে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত। বাংলা ভাষার সুনাম আজ বিশ্ব স্বীকৃত।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসে সাংবাদিকতা একটি বিশাল কষ্টের ব্যাপার। কিন্তু দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই প্রবাসে তারা সাহিত্য ও সাংবাদিকতা করছেন। প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি যে দরদ রয়েছে অন্য জাতির মধ্যে তা দেখা যায়না। বাংলা ভাষায় দেশে বিদেশে সাংবাদিকতা ও সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন লেখক সাংবাদিকদের সান্নিধ্য পাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য অতীব গৌরবের।
তিনি সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের সার্বিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে এর উন্ননের জন্য বিশেষ অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে আগামীতে যে কোন প্রয়োজনে কাউন্সিল ও সাংবাদিকদের পাশে থাকার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাতের খাবারের পর সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে হাসান মাহমুদ চৌধুরী এক কন্যা এবং তিন পুত্র সন্তানের পিতা। তাঁর দুই পুত্র এবং এক কন্যা অস্ট্রেলিয়ায় পড়া-লেখা করছেন।
তিনি ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৮৫ সাল থেকে তাঁর ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার শুরু করেন।