বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কালজয়ী সৃষ্টিকর্মকে উদযাপন এবং তাঁকে দেশের বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে উপস্থাপনের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরতে রাজধানীতে এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে “Kazi Nazrul Islam: The Universal Voice of Humanity and Freedom” (কাজী নজরুল ইসলাম: মানবতা ও স্বাধীনতার সার্বজনীন কণ্ঠস্বর) শীর্ষক এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের গভীর মানবিক তাৎপর্য এবং সমকালীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন। আলোচক হিসেবে নজরুলের চিন্তা ও দর্শনের নানা দিক ব্যাখ্যা করেন বিশিষ্ট কবি ও নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আবদুল হাই শিকদার।
সেমিনারে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, নজরুল গবেষক, শিল্পী এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা জাতীয় কবির কালজয়ী উত্তরাধিকার এবং তাঁর সাহিত্য ও সংগীতের আন্তর্জাতিক আবেদনের ওপর আলোকপাত করেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, সেমিনারটি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় সত্তা বিনির্মাণে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তাঁর বিশ্বজনীন মানবতাবাদী দর্শন তুলে ধরার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একই সাথে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শক্তিশালী সাংস্কৃতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সাংস্কৃতিক কূটনীতির কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চলমান ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনে প্রতিফলিত স্বাধীনতা, মানবতা ও অন্তর্ভুক্তির চিরন্তন মূল্যবোধ বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। আলোচনা পর্ব শেষে নজরুলের অমর সৃষ্টির অনুপ্রেরণায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।