বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, “আগামী দিনের নির্বাচনী ইশতেহারে এমন প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে, যা নতুন সরকার ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করবে। দেশকে মধ্যম আয়ের স্তরে নিতে হলে কাঠামোগত সংস্কার এখন অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন, “সংস্কারবিরোধী জোট ভাঙতে হলে এসব পদক্ষেপকে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকার সব কাজ শেষ করতে পারবে না—তবু জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে, কতটুকু সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে, কতটুকু বাকি এবং অসম্পূর্ণ কাজগুলোর রোডম্যাপ কী হবে।”
সভায় মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. দেবপ্রিয় বলেন, “অতীতে দেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও গুণগত পরিবর্তন ঘটেনি। স্কুল-কলেজ হয়েছে, কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দৃশ্যমান প্রকল্পনির্ভর এক শ্রেণি তৈরি হয়েছিল, যারা সংস্কারকে গুরুত্ব দেয়নি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সংস্কার নকশা করা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন অনেক কঠিন। আগামী দিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় আসবেন, তাদের এই কঠিন বাস্তবতাকে গ্রহণ করে এগোতে হবে। বর্তমান সময়টিকে আমি রূপান্তরকালীন সময় বলব—এখনই পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।”
সভায় সিপিডির আরেক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো অতীতে বহু আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। তবু আশার জায়গা আছে—আমরা এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি। আজকের আলোচনার ভিত্তিতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম একটি ‘নাগরিক ম্যানিফেস্টো’ তৈরি করবে।”