ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবির পাশাপাশি এখন বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের জবাবদিহিতার প্রশ্নও আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত এই নাগরিক উদ্যোগের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। মেট্রো স্টেশন ও বিভিন্ন সড়কে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও আন্দোলনকারীরা নানা বাধা অতিক্রম করে কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলেও বিক্ষোভ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সিজেপি। যদিও সংগঠনটির নামে ‘পার্টি’ শব্দটি রয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়; বরং একটি নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর এবার বাস্তবেও সংগঠনটির শক্তিশালী উপস্থিতি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ এবং নতুন ভোটারদের একটি বড় অংশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মা বলেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ সমাজ সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, কেবল শিক্ষা নয়—বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের উদ্বেগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি। আন্দোলনের শুরুতে সংগঠনটি দাবি করে, সরকার তাদের আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানান, আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরাই। তিনি বলেন, প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর তারা লিখিত স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন এবং সরকার আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত আন্দোলনের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে সিজেপিও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবের মতে, এটি কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়; বরং উন্নত শিক্ষা, কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবিতে নতুন প্রজন্মের বৃহত্তর আন্দোলন।
বিশ্লেষকদের অভিমত, তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের নীতিতে পরিবর্তন না এলেও এ আন্দোলন ভারতের তরুণদের অসন্তোষকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এবং এটি মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।