শিরোনাম :
পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যৌতুক ও মাদক নির্মূলে পরিবার থেকেই পরিবর্তনের ডাক ভূমি প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবন্ধী তরুণদের প্রযুক্তি দক্ষতা বাড়াতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ,অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের দাবি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান, ড্রয়ে স্বস্তির আভাস ‘এ মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই’-পেট্রোবাংলা বাগেরহাটে নির্মাণাধীন সেফটি ট্যাংকের দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহত ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান, বিপুল সরঞ্জামসহ আটক ৪ ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ায় উদ্বেগ, জুলাইয়ের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ

মিরাজের কান্নায় মাশরাফিও কাঁদলেন

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

জার্মানবাংলা স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের কাছাকাছি থেকেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হেরে যারাটা কম কষ্টের নয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা যেমন পাথরচাপা কষ্ট সহ্য করেছেন ঠিক তেমনি বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলোয়াড়দের মধ্যে কেউ কেউ আবেগময় কান্নায় সেই কষ্টের কথা জানিয়েছেন।

সূত্রে জানা যায়, সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই টিম হোটেলের ক্যাপ্টেনের রুমে চলে গেলেন মিরাজ। রুমে ঢুকেই মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরলেন। ছোটবেলায় লোল পড়ে যেমন স্যান্ডো গেঞ্জির বুক ভিজে থাকতো তেমনি আজও তার টিশার্টের পুরোটা বুক ভিজে আছে। আজ ভিজেছে চোখের পানিতে। নিজের খাটে শুয়ে এতক্ষণ একা একা কেঁদেছেন মিরাজ। আর সহ্য করতে পারছেন না। দৌঁড়ে গিয়ে বড় ভাইয়ের রুমে ঢুকেই তাকে জড়িয়ে ধরেছেন। এর আগে সকালের সূর্য ওঠার আগেই এসেছিলেন সারারাত না ঘুমানো মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ। এসেই দুজন বসলেন মাশরাফির দু পাশে।

বললেন, ভাই, পারলাম না।  তাদের নত হয়ে থাকা মাথা তুলে দিলেন মাশরাফি।
তারা বললেন, ভাই, অন্তত আপনার জন্য হলেও আমাদের পারা উচিত ছিল।আপনার হাতে একটা ট্রফি তুলে দিতে পারলাম না। ইন্ডিয়ার সাথেই বারবার এমন হয়। আর আমরা দুজনেই ডুবাই টিমরে। মনে হয় আমাদের দিয়ে হবে না ভাই।
সান্তনা দিলেন না মাশরাফি। তিনি জানেন, এদের দিয়েই হবে। মুশফিক মাহমুদুল্লাহর পর মাশরাফির দেখা হল লিটনের সাথে। তারা কেউ ব্রেকফাস্ট করতে যাননি। রুম সার্ভিস এসে ব্রেকফাস্ট দিয়ে গেছে সবার রুমে।

লিটন এসে বললেন, ভাই খাবেন না?
মাশরাফি বললেন, খাবো। তুই যা।
১২১ রান করা লিটন বললেন, ভাই আপনি বড় করতে বলছিলেন। আমি চাইছিলাম বাংলাদেশের সমান বড় করতে। কিন্তু আমি আপনার কথামত বড় করতে পারলাম না ভাই।
রুম থেকে যাওয়ার সময় লিটনের দিকে তাকিয়ে মাশরাফি মনে মনে বললেন, তুই বড় হবি লিটন। অনেক বড় হবি।
সৌম্য, ইমরুল, মিঠুন ওরা লজ্জায় এলো না ভাইয়ের সামনে। রুবেল আর মুস্তাফিজকে পিঠ চাপড়ে দিয়ে মাশরাফি বললেন, তোদের জন্যই তো টিকেছিলাম। মন খারাপ করস কেন?
অন্যকিছু ভাবতে চাচ্ছেন না মাশরাফি। তবুও মানুষ তো, তাই একবার হলেও মনে হচ্ছে তার, আজ যদি আমার তামিম থাকতো, সাকিব থাকতো।
আবার নিজের মনকে নিজেই সান্তনা দিচ্ছেন নিজের কথা দিয়েই, যুদ্ধে নামলে পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।

এদিকে মিরাজ এখনো পড়ে আছে তার বুকে।
বুক থেকে মিরাজকে টেনে তুলে চোখ মুছে দিলেন মাশরাফি। বললেন, তোরে আরও শক্ত হতে হবে ছোটো। তোরে নেতা হতে হবে। একদিন এই টিমটারে তুই লিড দিবি।
মিরাজ বললেন, আমার কিছু লাগবে না ভাই। আমি শুধু আপনারে চাই। আপনার জন্য একটা ট্রফি জিততে চাই। বলেই আবার জড়িয়ে ধরলেন মাশরাফিকে। চোখের পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিলেন মাশরাফির টি-শার্ট। মাশরাফি এবার আর মিরাজকে তুললেন না। তাকে কাঁদতে দিলেন। কাঁদলে মন হালকা হয়।

মাশরাফির বুকের মধ্যে লেপ্টে থেকে মিরাজ বুঝলো তার মাথার চুল ভিজে উঠছে। তার মাথার উপর থাকা দুটো চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। সে চোখজোড়ার দিকে তাকানোর সাহস তার নেই।

মাশরাফির বুকের মধ্যে মুখ লাগিয়ে সে শুধু বলল, আপনি কাঁদবেন না মাশরাফি ভাই। আপনি কাঁদলে আমাদের মন খারাপ হয়।

একদিন হয়ত আমরা কাপ জিতবো। আরও বড় দল হব। কিন্তু সেদিন আর আমাদের এই রূপকথার পাগলটা থাকবে না…।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD