যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে অতিক্রম করে দুর্ঘটনায় পড়েছে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি পণ্যবাহী বিমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
মিয়ামি-ডেড ফায়ার চিফ রে জাদাল্লাহ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম দুপুর ২টার কিছুক্ষণ আগে প্রাইম এয়ারের ‘৭৫৯৮’ নম্বর ফ্লাইটটি অবতরণের সময় রানওয়ে অতিক্রম করে মাটিতে থাকা একাধিক যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। মাটিতে থাকা দুটি যানবাহনে আটকে পড়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিমানের ভেতরে আটকে থাকা পাইলট ও কো-পাইলটকে উদ্ধারে ৬০টির বেশি উদ্ধারকারী ইউনিট এবং প্রায় ২০০ জন কর্মী কাজ করেন।
এভিয়েশন ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে এসেছিল। রানওয়ে অতিক্রম করার সময় উড়োজাহাজটির গতি ছিল ১১২ নট, যা ঘণ্টায় প্রায় ২০৭ কিলোমিটারের সমান।
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল ৩২ বছর পুরোনো বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ফ্রেটার। ‘২১ এয়ার’ নামের একটি কার্গো এয়ারলাইন অ্যামাজনের হয়ে বিমানটি পরিচালনা করছিল।
ঘটনার পর অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল এবং ২১ এয়ার কর্তৃপক্ষ নিহতদের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্তকারীদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির সভাপতি জেনিফার হোমেনডির নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল গঠন করে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং ২১ এয়ারও সরকারি তদন্তে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি, অবতরণের সময়কার পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসের ট্রিনিটি বে-তে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একই মডেলের একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে। ওই ঘটনায় উড়োজাহাজটির তিনজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছিলেন।
সূত্র: জাপান টাইমস ও রয়টার্স