নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আর কোনো আইনগত সুযোগ নেই। রবিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল ১২ এর দফা (১) ও উপ দফা (ঠ) অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের পূর্বের দিন পর্যন্ত ঋণখেলাপি হিসাবে বহাল থাকায় মান্নার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।
শুনানিতে মান্নার পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ব্যারিস্টার আহসানুল করিম, অ্যাডভোকেট মামুন মাহবুব অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক সুমন, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. উজ্জ্বল হোসাইন।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, “নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের আগের দিন পর্যন্ত কেউ ঋণখেলাপি থাকলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। চেম্বার জজ আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করায় মাহমুদুর রহমান মান্না ঋণখেলাপি হিসেবেই বহাল থাকলেন।”
এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদনে নথিপত্র জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় ইসলামী ব্যাংক মান্নার আগের দেওয়া স্যাংশন লেটার বাতিল করে দেয়। এতে তার ঋণসংক্রান্ত জটিলতা আরও বেড়ে যায়।
মাহমুদুর রহমান মান্না নিজেই জানিয়েছেন, ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের দিকে নিজ এলাকায় ঋণ নিয়ে একটি হিমাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি ব্যবসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, শুরুতে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।