শিরোনাম :
পরিবর্তনের জন্য বারবার রক্ত দিতে হয়েছে জাতিকে সংস্কৃতি মন্ত্রীর সাথে ইউনেস্কো প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ এগ্রিভোল্টাইক হবে কৃষকবান্ধব, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা যাবে না: পরিবেশমন্ত্রী বাগেরহাটে ডিবির অভিযানে উদ্ধার ১১ চোরাই গরু ও পিকআপ, গ্রেপ্তার ৩ হজ প্যাকেজ আরও সাশ্রয়ী করতে নতুন উদ্যোগ, প্রতারণায় কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, মেধা ও আত্মবিশ্বাসই সাফল্যের পথ তৈরি করে: ববি হাজ্জাজ হৃদরোগে আক্রান্ত ৯ বছরের হাবিবুল্লাহ বাঁচতে চায়, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৫ লাখ টাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সিপিএ রফিকুল ইসলাম জগলুর বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার

ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে নজরুলের গানকে সবার কাছে ছড়িয়ে দেয়া উচিত: সঙ্গীতজ্ঞ বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৩ মে, ২০১৮
  • ফাতেমা রহমান রুমা

বাংলাদেশে যে ক’জন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি। যার দেশ-বিদেশে রয়েছে অসংখ্য ভক্ত ও শিক্ষার্থী। তিনি নজরুল সঙ্গীত, ভক্তিগীতি, উচ্চাঙ্গসঙ্গীত ও আধুনিক গানের বিচিত্র ধারায় দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের মন জয় করার পাশাপাশি অনেক শিষ্যও তৈরি করছেন। তিনি তার সঙ্গীতলব্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মহান এই সঙ্গীতজ্ঞ ছায়ানটে নজরুল সঙ্গীত বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। তার কণ্ঠে ‘বনে বনে লাগলো দোল’ শিরোনামে নজরুল সঙ্গীতের এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন হয় বেঙ্গল বই প্রাঙ্গণে ১২ মে। প্রকাশিত এ্যালবাম ও সঙ্গীতের নানা দিক নিয়ে জার্মান-বাংলা টুয়েন্টিফোরকে সাক্ষাৎকার দেন গুণি এই সঙ্গীত সাধক।

আপনার প্রকাশিত এ্যালবাম ‘বনে বনে লাগলো দোল’ সম্পর্কে বলুন।

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: বেঙ্গল ফাউন্ডেশন নিবেদিত এ এ্যালবামটিতে নজরুলের ১০টি জনপ্রিয় গান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে- আমার আপনার চেয়ে আপন, কুহু কুহু কুহু কোয়েলিয়া, তুমি যতই দহনা, হে প্রিয় আমারে দেব না ভুলিতে, চেয়ো না সুনয়না, আমার বিফল পুষ্পাঞ্জলি ইত্যাদি।

আপনার নতুন এই এ্যালবাম নিয়ে কেমন সাড়া পাওয়ার আশা করছেন?

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: আমি খুবই আন্তরিক ও মনযোগের সঙ্গে নজরুলের এই গানগুলো করেছি। আশা করছি এবারো সঙ্গীতপ্রিয় মানুষের মন জয় করবে নজরুলের এই গানগুলো।

নজরুল সঙ্গীতকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে বর্তমান সময়ে কি করা উচিত?

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অসা¤প্রদায়িক চেতনার কবি। এ কথা সর্বজনবিধিত। মানুষের কল্যাণে তাঁর অসংখ্য সৃষ্টিগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে নজরুলের গান এক অসামান্য সৃষ্টি। তাই এ গান সবার কাছে ছড়িয়ে দেয়া শিল্পী হিসেবে সবার কর্তব্য। এটা অবশ্যই আমরা সবাই চাই। কিন্তু এর জন্য বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোরও এ ব্যাপারে অনেক বেশি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা যদি বেশি বেশি করে নজরুলের গানের অনুষ্ঠান টিভি-চ্যানেলগুলোত প্রচার করে, তাহলে তাঁর গানের প্রতি মানুষের আগ্রহও অনেক বেড়ে যাবে।

বর্তমানে কি নজরুল চর্চা তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দিবস কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে?

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: আমার কাছে নজরুল সব সময়ই প্রাসঙ্গিক। জীবন চলার পথে নজরুলের গান এক আলোক বর্তিকা। শুধুমাত্র তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর ফ্রেমে নজরুলকে সীমাবদ্ধ রাখলে ভুল হবে।

নজরুলের গান নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: নজরুল সঙ্গীত সম্পর্কে সকল মতপার্থক্য ভুলে, সকল শিল্পীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ ব্যাপারে ঘরে ঘরে নজরুল সঙ্গীতের সংগঠন গড়ে উঠলেও কোন ক্ষতি নেই। প্রত্যেকের ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে সত্যিকার অর্থে নজরুলের গানকে ভালবেসে সবার কাছে ছড়িয়ে দেয়া উচিত। তবে আমি মনে করি, বাণী ও সুর ঠিক রেখে নজরুল সঙ্গীত চর্চা ও পরিবেশনা করা সকল শিল্পীর উচিত।

এ প্রজন্মের শিল্পীরা কেমন গাইছে নজরুলের গানগুলো?

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: আমি নজরুল সঙ্গীত নিয়ে আশার আলো দেখছি। এ প্রজন্মে অনেক ভাল ভাল প্রতিভা বেরিয়ে আসছে। অনেকেই ভাল গান করছে। তবে সবাই যে একেবারে স্বচ্ছ শিল্পী হয়ে বেরিয়ে আসছে এটাও বলা যাবে না। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চার মাধ্যমে এই অঙ্গণকে রাঙিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।

আপনার পেশাগত বিষয় সম্পর্কে কিছু বলুন?

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: সঙ্গীতই আমার পেশা এবং নেশা। আমি বেশ কিছুদিন যাবত ছায়ানটে নজরুল সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আছি। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে মিউজিকে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আছি।

মিউজিকে আপনার সেবা এ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে বলুন।

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: আমি ২০১২ সালে আরটিভি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড স্টার এ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। এতে প্রমিজিং ট্যালেন্টে আমি প্রথম হয়েছিলাম। এটা আমার সঙ্গীত জীবনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন। আমি মনে করি শিক্ষার শেষ নেই। তাই এখনও উচ্চাঙ্গ ও নজরুল সঙ্গীতের তালিম ও চর্চা চালিয়ে যাচ্ছি।

জার্মান-বাংলা টুয়েন্টিফোরকে সাক্ষাৎকার দেয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।

বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি: আপনার জন্যও অনেক অনেক শুভ কামনা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD