বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ( জেএসডি )’ ৭৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগ জেএসডি জামালপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ৪ জানুয়ারী বিকালে জামালপুর শহরের স্থানীয় সকাল বাজারস্হ ভাসানী অনুসারী পরিষদের দলীয় কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জেএসডি) জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল রানার সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা জেএসডি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা জেএসডি’র সভাপতি মোহাম্মদ আমির উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি’ জামালপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি প্রবীন সাংবাদিক আব্দুল আওয়াল, জেএসডি নেতা সাংবাদিক লিটন রাজ প্রমুখ।
এসময় ছাত্রলীগ জেএসডি জেলা ও সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি জামালপুর জেলা শাখার সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির উদ্দিন বলেন সত্যিকারের ছাত্রলীগ হচ্ছে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, এই ছাত্রলীগের হাত ধরেই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে, এই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই বাংলাদেশের ইতিহাস রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন দেশ বিভক্তির পর থেকে ৫২’ র ভাষা আন্দোলন, ৬২’ র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’ র ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’ র গঅভ্যূত্থান ৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন তৎপরবর্তীতে ১৯৭১ সালের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসে এই সংগঠনটি। ৬০’ র দশকের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স, (বিএলএফ) স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ, নিউক্লিয়াস প্রতিষ্ঠাতা রাজনৈতিক গুরু দাদাভাই সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে জয়বাংলা বাহিনী গঠন করা হয়, জয়বাংলা স্লোগানকে জাতীয় স্লোগান তৈরি করাসহ মুক্তিসংগ্রামের প্রেরণা দিয়ে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ দিয়ে লড়াই সংগ্রামের পথে উজ্জীবিত করা সহ, সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই সংগঠন ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। এই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়েই ১লা মার্চ ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়, ২ রা মার্চ ১৯৭১ সালের লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন, পতাকা তৈরীর পরিকল্পনা, ৩ রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা, ৭ মার্চের ভাষন তৈরীসহ এসকল কিছুর নেপথ্যে ছিলেন সিরাজুল আলম খানের প্রতিষ্ঠিত নিউক্লিয়াস।
এছাড়াও আমির উদ্দিন আরো বলেন স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, শুধুমাত্র ব্যক্তি ও দলের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এদশের সাধারণ জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কেউ লড়াই সংগ্রাম করেনি, এজন্যই সেদিন ১৯৭২ সালের ২৩ জুলাই ছাত্রলীগের বিভক্তির মধ্য দিয়ে এই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আলাদা হয়ে যায়। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের আদর্শে জাতীয় ঐক্যমতের সরকার গঠনের জন্য দীর্ঘ ৫৩ বছর রাজনীতির মাঠে এই ছাত্রলীগের পূর্বসূরিরা কাজ করে যাচ্ছেন। ছাত্রজনতার সফল অভ্যুত্থানে মধ্য দিয়ে ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর এখন আমরা সবাই মুক্ত আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানে তরুণ প্রজন্মের গৌরব এই অভ্যুত্থানকে আমরা ব্যর্থ হতে দিব না। আমরা ৭১’ র চেতনা ভিত্তিক ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্খা পূরনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এক হয়ে কাজ করবো।।