আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৈঠকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, নৌপরিবহন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, পররাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ, স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিবরা। এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, ডাক অধিদপ্তর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং কারা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, নির্বাচনকর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন, নির্বাচনী উপকরণ পরিবহন ও যোগাযোগ সুবিধা, তথ্যপ্রবাহ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সিইসি নাসির উদ্দিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সহযোগিতা জোরদার করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠক জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আরও কয়েক দফা বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী সময়কালে জনগণের আস্থা অর্জন ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে একদিকে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।