বাংলাদেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাঁর এই চিরবিদায়ে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে অনলাইন পোর্টাল জার্মান বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পরিবার।
এক শোকবার্তায় জার্মান বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রকাশক ও সম্পাদক ফাতেমা রহমান রুমা এবং পুরো ‘জার্মান বাংলা’ পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। শোকবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে আধুনিক ও ডিজিটাল রূপান্তরে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণ দেশের সাংবাদিকতা জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে মরদেহ সরাসরি নেওয়া হয় তাঁর প্রিয় কর্মস্থল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কার্যালয়ে। সেখানে দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রাখার পর মরদেহ বাসায় নেওয়া হয়, যেখানে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা শেষবারের মতো বিদায় জানান।
উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় গত ১ অক্টোবর রাতে লন্ডনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গত ৮ অক্টোবর লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর শেষ করে ১৯৮৯ সালে সানডে এক্সপ্রেসের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। পরবর্তীতে দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন তিনি। ২০০৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম দেশের প্রথম সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টার ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে যাত্রা শুরু করে, যা বাংলাদেশের সংবাদসেবায় এক ঐতিহাসিক বিপ্লব সূচনা করেছিল।