বেশিরভাগ দল, বিএনপি ও জামায়াতসহ, সনদে স্বাক্ষরের জন্য সম্মত হলেও, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও চারটি বাম দল (সিপিবি, বাসদ, বাসদ-মার্ক্সবাদী ও বাংলাদেশ জাসদ) স্বাক্ষরের আগে বাস্তবায়নের খসড়া ও আইনি কাঠামো দেখার দাবিতে অনড় থাকে। ফলে সনদে ২৪টি দলই স্বাক্ষর করেছে, পরে গণফোরামও এতে যোগ হয়। স্বাক্ষরের আগে সনদে একটি ধারায় সংশোধন আনা হয় বাম দলগুলোর আপত্তি নিষ্পত্তি করার জন্য।
সনদে স্বাক্ষরের দিন জাতীয় ঐক্যের নামে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এটিকে ঐতিহাসিক ঘোষণা হিসেবে অভিহিত করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। জামায়াতের নায়েবে আমির তাহেরও সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে তা জাতির সঙ্গে প্রতারণা হবে বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে নির্বাচন ও বাস্তবায়নের আইনি কাঠামো নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের চলমান বৈঠক ও আলোচনা চলছে। কমিশন তাদের মেয়াদ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠাবে। সুপারিশ অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা মাধ্যমে আদেশ জারি করা হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে সনদ অনুমোদিত হবে।
একই সঙ্গে কমিশন সরকারকে আহ্বান জানাবে, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বিশেষ আদেশ জারি ও সংস্কার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে। এর ফলে এনসিপিসহ অন্য দলের স্বাক্ষরও সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসতে পারে এবং চূড়ান্ত প্রক্রিয়া ঘোষণার পর রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র মূল দাবি হলো: জুলাই সনদকে আইনি ও টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা। এছাড়া তারা গণভোট ও সংসদীয় কাঠামোর মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া চাইছে।
জুলাই সনদ প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংলাপ ও ঐকমত্যের ফলাফল, যা দেশের সংবিধানিক সংস্কার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।