জার্মানি থেকে ফাতেমা রহমান রুমা: হোসেন শিরীন একজন সফল নারী কৃষি উদ্যোক্তা। জার্মানির মাটিতে একজন বাঙালি হিসেবে হোসেন শিরীন নীরব কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন আপন আঙ্গিনায় কৃষিপণ্য আর ফুলের বাগান। যা দেখে যে কারো নজর কাড়ে।

স্বামীর সঙ্গে বাগানে হোসেন শিরীন
প্রবাসের মাটিতে নিজের মেধামনন কাটিয়ে এ ধরনের বাগান গড়ে তোলা এই গুণধর নারী হলেন জার্মান প্রবাসী আকন্দ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, আকন্দ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন-এর স্ত্রী হোসেন শিরীন জন্ম ১ জুন ১৯৬৫ সালে। উচ্চ শিক্ষিতা হোসেন শিরীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স), এমএ সম্পন্ন করেছেন। স্বামীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ন্যায় হোসেন শিরীনের রয়েছে নানামুখী কর্মকাণ্ডে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ব্যক্তি ও সামাজিক অবস্থানে সফল এই দম্পত্তির জার্মানীর ফ্রাঙ্কফোটের বাসায় গিয়ে তার বাস্তব প্রমাণই মিলে। সম্পূর্ণ নিজের একান্ত চেষ্টা আর প্রকৃতি প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাসস্থানের আশেপাশেই গড়ে তুলেছেন নানা জাতের কৃষিপণ্যের বাগান।
হোসেন শিরীন-এর ব্যক্তিগত জার্মানীর মাটিতে সোনাই ফলাচ্ছেন বাঙালি এই নারী কৃষি উদ্যোক্তা। নিজেই কাজ করেন তার বাগানে। বাগানের যত্নে বাড়ির পাশেই বায়োগ্যাস প্ল্যাট থেকে জৈব সারও তৈরি করেন তিনি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কীটনাশকমুক্ত সবজি ও ফল উৎপাদন করছেন বলেই জানান তিনি।
হোসেন শিরীনের কৃষি বাগান ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট টবে লাউ, কালো বেগুন, সাদা বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, পুঁই শাক, করলা, উস্তা, শিম গাছ লাগানো হয়েছে। কিছু কিছু গাছ বাড়ির দেয়াল ঘেষে বেড়ে উঠার জন্য দেয়া হয়েছে খুুঁটি। এছাড়া নানা জাত সবজির পাশিপাশি প্রকৃতি প্রেমী হোসেন শিরীন তার বাগানে গাদা ফুলের গাছও লাগিয়েছেন। ফুলের এই স্নিগ্ধতা সবজির বাগানের বাড়তি আকর্ষণ বলেই মনে করেন তিনি।
এদিকে বাড়ির আঙ্গিনায় নান্দনিক কৃষিপণ্য আর ফুলের বাগান গড়ে তুলায় জার্মানিতে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন হোসেন শিরীন। হোসেন শিরীনের কৃষি বাগানের সফলতার গল্প তুুলে ধরতেই জার্মান প্রবাসী জার্মানবাংলা টুয়েন্টিফোর-এর বিশেষ প্রতিনিধি দল সম্প্রতি পরির্দশন করেছেন তার বাগানটি।
জার্মানবাংলা টুয়েন্টিফোর-এর প্রতিনিধি দলের সাথে আলাপকালে হোসেন শিরীন বলেন, ‘আমি মাতৃভূমি থেকে যত দূরেই থাকি না কেন, নিজের দেশের বিভিন্ন শাক-সবজি, ফুল ও ফলের আবাদ জার্মানিতে করতে পেরে খুবই খুশি ও গর্বিত। বর্তমানে আমার কাছে মনে হয় জার্মানির মাটিতে দেশীয় কৃষি পণ্য উৎপাদন করে আমি বাংলাদেশেই আছি।’
প্
রবাসের মাটিতে এ ধরনের কৃষি পণ্যের বাগান করা প্রসঙ্গে হোসেন শিরীন বলেন, ‘অনেকে বিদেশে এসে আধুনিকতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। নিজের দেশের ঐতিহ্যকে ভুলে যান। আমি মনে করি, এটা ঠিক নয়। আমরা একটু চেষ্টা করলেই এ ধরনের নানা উন্নয়নমুখী কাজ করতে পারি। নিজের উৎপাদিত ফ্রেশ সবজি খেতে পারি বাচ্চাদেরও খাওয়াতে পারি। এটা অনেক বড় বিষয়।’
কৃষি কাজে উদ্বুদ্ধ করতে অন্যদের প্রতি তিনি বলেন, যে কেউ বাড়ির আশেপাশে খালি জায়গা পতিত ফেলে না রেখে নিজের প্রয়োজনেই এ ধরনের কৃষি বাগান গড়ে তোলা উচিত। এতে নিজের মধ্যে যেমন আত্মপ্রত্যয় বাড়ে তেমনি পরিবারের কৃষিপণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
পারিবারিক জীবনের সুখি ও আনন্দের গল্প শোনালেন হোসেন শিরীন। তিনি বলেন, তার স্বামী আকন্দ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জন্ম ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫১ সাল ঢাকায়। উন্নত জীবনমানের প্রত্যাশায় ১৯৭৭ সালে চলে আসেন জার্মানীতে। বসবাসের জন্য বেছে নেন জার্মান প্রবাসী বাঙালিদের প্রিয় শহর ফ্রাঙ্কফোটকে। জার্মানীতে বিভিন্ন মাল্টিনেশন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আকন্দ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের। সর্বশেষ লুফথহানসা এয়ারলাইনসেই দক্ষতা আর দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চাকরি করেছেন টানা ২৫ বছর। গত এক বছর যাবৎ পেনশন অবসরে আছেন আত্মপ্রত্যয়ী কর্মজীবনে সফল ব্যক্তিত্ব আকন্দ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।
শাহাদাত হোসেন ও হোসেন শিরীনের রয়েছে দুই ছেলে। বড় ছেলে সাজ্জাদ হোসেন জয়। জন্ম ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ সালে রাজশাহীতে। ফ্রাঙ্কফোট ইউনিভার্সিটি থেকে মেডিসিন বিষয়ে পড়াশোনা করে বর্তমানে জার্মানির সেনাবাহিতে ডাক্তার হিসেবে কর্মরত।
ছোট ছেলে সোহাইন রুবাব ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফোটে জন্ম। বর্তমানে সে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করছে।