জার্মানবাংলা২৪ ডটকম: বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি এখন দলের মূল ইস্যু। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দল ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
তাদের ভাষ্য, আইনী প্রক্রিয়ায়ই বেগম জিয়াকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন তারা। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটলে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোন বিকল্প পথ দেখছেন না দলটির নেতারা। এজন্য নিজেরা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন। বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গছে।
রোববার ২২ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক জরুরি সভায় দলটির সিনিয়র নেতারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে নানা কর্ম-পরিকল্পনা ও আন্দোলনের ছক তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া সভায় মূল বিষয় ছিল, মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই বিএনপি ভোটে অংশহগ্রহণ করবে। অন্যথায় নয়।
সভায় সূত্রে জানা গেছে, বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের এক পর্যায়ে গিয়ে বিএনপির সকল নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন। এজন্য আন্দোলন কী ধরণের হবে, সেগুলো দলের হাই-কমান্ডের কাছে প্রস্তাব রেখেছেন বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা। এগুলো হলো: ইউনো অফিস, ডিসি অফিস ঘেরাও, হরতাল ও অবরোধ। তবে এসব কর্মসূচি কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে সেবিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি।
সূত্রটি আরো জানায়, প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয় যে. যখন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে- ওই সময় উপজেলায় যেসকল নেতাকর্মীরা জেলায় থাকবেন, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে উপজেলায় চলে যেতে হবে। আর জেলায় যেসকল নেতাকর্মীরা ঢাকায় আছেন, আন্দোলনের সময় তাদের নিজ নিজ জেলায় গিয়ে কর্মসূচিগুলোর সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে দেয়া হয়। এছাড়া সভায় আইনজীবীদের বলা হয়, তারা যেন আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে আদালতে কর্মসূচিগুলো জোরদার করেন।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি নেতা শিরিন সুলতানা ও আমিনুল ইসলামসহ সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।