কম বেতনে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের মাত্রাতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কম্পিউটার সায়েন্স গ্র্যাজুয়েটরা চাকরি হারাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশটির কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর। তাঁর দাবি, এইচ-১বি (H-1B) ভিসাধারী বিদেশি কর্মীরা আমেরিকান তরুণ পেশাজীবীদের সুযোগ খর্ব করে তাদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, যাদের একটি বড় অংশই ভারত ও চীনের নাগরিক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের একটি সাম্প্রতিক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুর। সেখানে তিনি মার্কিন এইচ-১বি ভিসা এবং অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রামগুলোকে রীতিমতো ‘কেলেঙ্কারি’ হিসেবে অভিহিত করেন। কংগ্রেস সদস্য মুর অভিযোগ করেন, এই বিশেষ কর্মসূচিগুলোর অপব্যবহার করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে বিদেশি জনশক্তি এনে স্থানীয় আমেরিকান কর্মীদের প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।
সালেম নিউজ চ্যানেলে প্রচারিত ‘দ্য স্কট জেনিংস শো’-তে অংশ নিয়ে রাইলি মুর বলেন, ‘গত বছর আমাদের দেশে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার তরুণ কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মতো কারিগরি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের জায়গায় আমরা পাঁচ লক্ষাধিক এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করেছি, যা অত্যন্ত অবিশ্বাস্য। মূলত কম পারিশ্রমিকে কাজ করানোর সুবিধার্থেই স্থানীয় তরুণদের মেধার অবমূল্যায়ন করে বিদেশি সস্তা শ্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় দক্ষ জনবলের অভাব মেটাতে বিশ্বমানের সেরা প্রতিভাদের আনার উদ্দেশ্যে এইচ-১বি কর্মসূচি চালু করা হলেও বর্তমানে এটি সস্তা শ্রম আমদানির একটি বাণিজ্যিক হাতিয়ারে রূপ নিয়েছে। এর ফলে হিসাববিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের সদ্য পাস করা আমেরিকান তরুণরা সরাসরি কর্মসংস্থানের সংকট ও বাধার মুখে পড়ছেন। এ ছাড়া একজন ভিসাধারীর সূত্রে গড়ে পরিবারের প্রায় ১০ জন সদস্য চলে আসার মাধ্যমে এটি এক ধরনের নিয়ন্ত্রণহীন ‘চেইন মাইগ্রেশন’ বা পারিবারিক অভিবাসনের পথ প্রশস্ত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজের পরিবেশ আরও কঠোর করার ইঙ্গিত মিলছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি নতুন বিধিমালার প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তারা পূর্বানুমোদন থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীর যোগ্যতা নতুন করে কঠোরভাবে যাচাইয়ের পূর্ণ এখতিয়ার পাবেন। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর পরিসংখ্যানমতে, ২০২৫ অর্থবছরে মোট অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল ভারতীয়দের দখলে; ফলে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন হলে ভারতীয় অভিবাসীদের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: সালেম নিউজ চ্যানেল (দ্য স্কট জেনিংস শো) ও ইউএসসিআইএস (ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস)