উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এই পরীক্ষার সমন্বিত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার এবং সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ প্রাপ্তি—উভয় সূচকেই বড় ধরনের পতন হয়েছে।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। সামগ্রিকভাবে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। গত ২০২৫ সালে এই পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ; সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেখা গেছে সবচেয়ে বড় ধস। এ বছর মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর পুনর্নিরীক্ষণের পর চূড়ান্ত ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭২ হাজার ১৭৬ জন (প্রথমে ৬৯,০৯৭ জন এবং পুনর্মূল্যায়নে বৃদ্ধি পায় ৩,০৭৯ জন)। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ কমেছে ৩২ হাজার ৯২ জন, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ কম। মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও ফেল করার দিক থেকে ছাত্ররা অনেক বেশি পিছিয়ে। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ছাত্রদের মধ্যে অকৃতকার্য বা ফেল করার হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশে, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি ছাত্র ফেল করেছেন। অন্যদিকে ছাত্রীদের ফেল করার হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড (৬১.৮০%) এবং সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড (৪৪.৮৪%)। অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে রাজশাহীতে ৪৫.০৬%, কুমিল্লায় ৪৮.০৪%, যশোরে ৪৪.৯২%, চট্টগ্রামে ৫২.০৭%, সিলেটে ৫০.৯০%, দিনাজপুরে ৪৫.৯৮% এবং ময়মনসিংহে ৫১.৪৪% শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এছাড়া বিশেষায়িত বোর্ডের মধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
তথ্যসূত্র: শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পরিসংখ্যান।