ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে ‘আরও বেশি দুর্বল’ করে তুলেছে বলে দাবি করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার নিকটবর্তী মরো শহরে আয়োজিত এক ভোটার সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
তেহরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন ওবামা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, তার শাসনামলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তিটি কোনো ধরনের রক্তপাত ছাড়াই তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সফলভাবে সীমিত রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
সামরিক শক্তির বিপরীতে কূটনীতির সাফল্য তুলে ধরে ওবামা বলেন, ‘আমাকে লক্ষ্য হাসিলের জন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হয়নি; আমি কার্যকর কূটনীতির পথে হেঁটেছিলাম।’
চলমান এই সামরিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের মিত্র ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা হয়েছে। বহু আমেরিকান নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও শত শত আমেরিকান। তাছাড়া একের পর এক অভিযানে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও ফুরিয়ে গেছে, যা সামগ্রিকভাবে আমাদের আরও দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মাধ্যমে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর কার্যত ইরানের একচ্ছত্র ভেটো ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
ওবামা আরও উল্লেখ করেন, এই ভুল যুদ্ধনীতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এবং ঠিক এ কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রদত্ত ভাষণ।