জুনিয়র বন্ধু দ্বীপ ও তাহসিফ। কোলাজ ইত্তেফাক
রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিউটি অফিসার এএসআই মোস্তাফিজ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, উত্তরখান থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মামলার বিষয়ে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্র ও তদন্তে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে দুজনের হাত মেলানো ও আলাদা বাইকে প্রস্থান করার দৃশ্য ধরা পড়ে। পরবর্তীতে গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট থেকে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁকে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তীতে পিবিআই দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, কিছু লোকের ধাওয়ার মুখে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তবে তাহসিফের বাবা এ বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে জানান, তাঁর ছেলে ভালো সাঁতার জানতেন; ফলে ঝাঁপ দিয়ে ডুবে মৃত্যুর দাবি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তব্যে অসংগতি মেলায় পিবিআই সমস্ত তথ্যপ্রমাণসহ দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এবং শেষ পর্যন্ত বাবার হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তথ্যসূত্র: নৌ পুলিশ তুরাগ ফাঁড়ি, উত্তরখান থানা ও মামলার এজাহার।