শিরোনাম :
টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা ২৮তম শাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাঁচ বছরে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়লেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে অভিযোগ: ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সুরের মিলনমেলা, দুই দিনের আয়োজন শেষ করল সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ফ্রান্সে রেকর্ড দাবদাহে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের নতুন এল নিনোর প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, উষ্ণ হতে পারে ২০২৭ সাল সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়, নকআউট নিশ্চিত করল নরওয়ে

আজ জার্মান পুনরেকত্রীকরণ দিবস

ফাতেমা রহমান রুমা,জার্মানি, সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৪

১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবরের রাত৷ বার্লিনে হাজার হাজার মানুষ জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ উৎসবে মেতে উঠেছিলেন৷ কিন্তু এই ঘটনার মোড় অন্য দিকেও ঘুরতে পারতো৷

বার্লিনে রাইশসটাগ ভবনের উপরের রাতের আকাশে যখন আতশবাজির ফোয়ারা ছড়িয়ে পড়ল, তখন উপস্থিত প্রায় সবারই চোখে আবেগাশ্রু৷ তাঁরা এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পেলেন, যা শুধু জার্মানি নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশের মানুষও কখনো সম্ভব বলে মনে করেন নি৷ এক শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের মাধ্যমে সাবেক পূর্ব জার্মানির জনগণ সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে শাসকদের ক্ষমতা থেকে তাড়িয়ে দেয়৷ একটিও গুলি খরচ হয়নি, কোনোরকম হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে নি, কারো কোনো ক্ষতি হয় নি৷ ১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবর জিডিআর বা জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ফেডারেল জার্মান প্রজাতন্ত্রের অংশ হয়ে যায়৷ জার্মানি আবার একটি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে৷

তৎকালীন জার্মান প্রেসিডেন্ট রিশার্ড ফন ভাইৎসেকার সেদিন রাতে জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের সঙ্গে ইউরোপীয় সমন্বয় প্রক্রিয়ার যোগসূত্র তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, ‘‘জার্মান হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন৷ এক ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের কাঠামোর মধ্যে থেকে আমরা বিশ্বশান্তির জন্য কাজ করতে চাই৷”

সেসময়ে চ্যান্সেলারের দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন রুডল্ফ সাইটার্স৷ চ্যান্সেলার হেলমুট কোল’এর বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে প্রায় ১২ মাস ধরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন তিনি৷ ৩রা অক্টোবর রাতে তিনিও ছিলেন বার্লিনে৷ রাতে তাঁরও ঘুম হয় নি৷ তিনি বলেন, ‘‘অনেক কথা মনে পড়ে যাচ্ছে৷ চেকোস্লোভাকিয়ার রাজধানী প্রাগে পশ্চিম জার্মান দূতাবাসের বাগানে যে পূর্ব জার্মান শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের পশ্চিমে যাবার অনুমতি যোগাড় করতে আসরে নেমেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হান্স ডিট্রিশ গেনশার৷ সেই আলোচনায় আমিও অংশ নিয়েছিলাম৷ জার্মান সংসদে আমি পুনরেকত্রীকরণ সম্পর্কে ভাষণ দিয়েছিলাম৷”

১৯৮৯ সালের ৯ই নভেম্বর বার্লিন প্রাচীরের পতন থেকে ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত ৩২৯ দিন ছিল গোটা প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ দুই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতাদের নানা জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে অনেক সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছিল৷ বিশেষ করে পূবের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের কাজ মোটেই সহজ ছিল না৷ কেন্দ্রীয় শাসিত সমাজতান্ত্রিক এক রাষ্ট্রব্যবস্থা লুপ্ত হয়ে সেজায়গায় স্থাপিত হলো ফেডারেল বিকেন্দ্রিক এক কাঠামো৷ পূর্বাঞ্চলে নতুন ৫টি রাজ্যের সীমানা রচনা করতে হয়েছে৷ পূবের মুদ্রার জায়গায় চালু হয়েছে পশ্চিমের ডয়চে মার্ক৷ এই প্রক্রিয়ায় কোনোরকম ঢিলেঢালা মনোভাব দেখানোর সুযোগ ছিল না৷ তৎকালীন সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচভের কল্যাণে গোটা পূর্ব ইউরোপ জুড়ে ‘পেরেস্ত্রয়িকা’ ও ‘গ্লাসনস্ত’এর যে আবহ তৈরি করেছিল, তার নিজস্ব চালিকা শক্তির গতি কমানোর কোনো উপায় ছিল না৷

পুনরেকত্রীকরণের বিষয়টি শুধু দুই জার্মানির রাজনৈতিক নেতাদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল ছিল না৷ সাম্প্রতিক অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইউরোপের অনেক দেশে আবার এক পুনরেকত্রীত জার্মানিকে ঘিরে সন্দেহ ও আশঙ্কা দানা বাঁধছিল৷ তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার তো প্রায় বেঁকে বসেছিলেন৷ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া মিতেরঁও একেবারে কোনো উৎসাহ দেখান নি৷ সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য বিষয়টি ছিল আরও গুরুত্বপূর্ণ৷ ওয়ারশ জোটের ভবিষ্যৎ ও ন্যাটোর প্রভাব-প্রতিপত্তি কী হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছিল৷

ইতিহাসের সেই সন্ধিক্ষণে ভাগ্যও জার্মানির সহায় হয়েছিল৷ সেসময়ে বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে অন্য কোনো বড় ঘটনা আন্তর্জাতিক সমাজের মনোযোগ কেড়ে নেয় নি৷ ফলে বিশ্ব নেতারা ইউরোপের হৃদয়ের এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন৷ এর ঠিক পরেই ইরাকের কুয়াইত আক্রমণ প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়৷ এই ঘটনা আগে ঘটলে জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া অনেক জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারতো৷

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD