শিরোনাম :
ফ্রাঙ্কফুর্টে গ্রেটার নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী হরিপুর সীমান্তে ১১ জনকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা ব্যর্থ ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ,  চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন হাম টিকা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগে ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন, জারি সুনামি সতর্কতা গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ পেয়েছে ১৬০ দেশের সমর্থন: হান চেং রুশ নিয়ন্ত্রিত বন্দরে ড্রোন হামলা, পাঁচ জাহাজ লক্ষ্যবস্তু সমাজতান্ত্রিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে চীন-লাওস কিউবা ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াল বেইজিং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাইরেন জুড়ে দেশ

হাইডেলবার্গ ক্যাসেল: অতীতের গৌরব ও রোমান্টিক স্মৃতি

ফাতেমা রহমান রুমা,জার্মানি:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫

জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নেকার নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা হাইডেলবার্গ ক্যাসেল শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ইউরোপীয় ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতীক। হাইডেলবার্গ শহরের এই ঐতিহাসিক দুর্গটির নির্মাণ শুরু হয় আনুমানিক ১২১৪ সালের দিকে, যখন এটি প্যালাটিনেট রাজ্যের প্রিন্স ইলেক্টরদের প্রতিরক্ষা দুর্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিকভাবে দুর্গটির গুরুত্ব ছিল সামরিক দিক থেকে অপরিসীম। তবে সময়ের পরিক্রমায় এটি রাজপরিবারের আবাসস্থলে পরিণত হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী রাজকীয় জীবন, আনুষ্ঠানিকতা ও রাজনীতি এই প্রাসাদের দেয়ালেই লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে।

চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতকের মধ্যে হাইডেলবার্গ হয়ে ওঠে প্যালাটিনেট রাজ্যের রাজধানী। এই সময়েই দুর্গের স্থাপত্যে গথিক রূপ থেকে রেনেসাঁ শৈলীতে রূপান্তর ঘটে। প্রিন্স ইলেক্টর ওটহাইনরিশ ও ফ্রিডরিশ পঞ্চম নতুন প্রাসাদ নির্মাণ করেন, যার মধ্যে Ottheinrichsbau ও Friedrichsbau বিশেষভাবে বিখ্যাত। একই সময়ে ১৩৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়- যা আজও জার্মানির প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সতেরো শতকের ভয়াবহ ত্রিশ বছরের যুদ্ধ হাইডেলবার্গ দুর্গকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরবর্তী সময়ে, ১৬৮৯ ও ১৬৯৩ সালে, ফরাসি সেনারা রাজা লুই চতুর্দশের নির্দেশে দুর্গটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। কিছু অংশ পুনর্গঠনের চেষ্টা হলেও, ১৭৬৪ সালে বজ্রপাতের অগ্নিকাণ্ডে দুর্গের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর এটি আর কখনো সম্পূর্ণ পুনর্নির্মিত হয়নি।

আঠারো ও উনিশ শতকের রোমান্টিসিজম আন্দোলনের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত এই দুর্গই হয়ে ওঠে সৌন্দর্য ও নিঃসঙ্গতার প্রতীক। কুয়াশা, পাহাড় আর নদীর ধারে ভগ্নপ্রাসাদের দৃশ্য জার্মান কবি ও শিল্পীদের অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়। গোয়েথে এখানে এসে একে বলেন “নিঃসঙ্গ আত্মার নিবাস”, ভিক্টর হুগো দেখেছেন “ঈশ্বরের নীরবতা”, আর মার্ক টোয়েনের ভাষায় এটি “a ruin of a dream, not of a castle।”

দুর্গের নিচে অবস্থিত বিখ্যাত Heidelberg Tun একসময় প্রায় দুই লক্ষ বিশ হাজার লিটার ওয়াইন সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতো। এর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন কিংবদন্তি বামন Perkeo, যিনি কথিতভাবে কখনো পানি স্পর্শ করতেন না শুধু ওয়াইনই পান করতেন।

আজ দুর্গের বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এর শোভা অম্লান। দর্শনার্থীরা ফিউনিকুলার রেলওয়ে ব্যবহার করে উপরে উঠে প্রাসাদের প্রাঙ্গণ, Friedrichsbau-এর ফাসাদ এবং Heidelberg Tun উপভোগ করেন। প্রতি বছর “Schlossbeleuchtung” উৎসবে দুর্গ আলোকিত হয়, আর নেকার নদীর উপর আতশবাজির ঝলক শহরকে আলোকিত করে তোলে।

বর্তমানে হাইডেলবার্গ ক্যাসেল শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, এটি জার্মান রোমান্টিসিজমের আত্মা ও হারানো ভালোবাসার প্রতীক। এর ভাঙা প্রাচীরের ফাঁকে আজও যেন সময় থেমে থাকে, আর নেকারের কুয়াশা সেই অতীতের প্রতিধ্বনি বহন করে চলে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD