শিরোনাম :
ফ্রাঙ্কফুর্টে গ্রেটার নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী হরিপুর সীমান্তে ১১ জনকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা ব্যর্থ ২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ,  চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন হাম টিকা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগে ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন, জারি সুনামি সতর্কতা গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ পেয়েছে ১৬০ দেশের সমর্থন: হান চেং রুশ নিয়ন্ত্রিত বন্দরে ড্রোন হামলা, পাঁচ জাহাজ লক্ষ্যবস্তু সমাজতান্ত্রিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে চীন-লাওস কিউবা ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াল বেইজিং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাইরেন জুড়ে দেশ

সম্পাদকীয়: ভূমিকম্প প্রস্তুতিতে এখনই জাতীয় জাগরণ জরুরি

সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সম্পাদকীয়: বাংলাদেশকে আমরা বহুদিন ধরেই ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ দেশ হিসেবে দেখি। কিন্তু ভূমিকম্পের মতো নীরব বিপদকে এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব দিই না। সাম্প্রতিক কয়েকটি মাঝারি মাত্রার কম্পন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, তা আমাদের দীর্ঘদিনের অজুহাত ও আত্মতুষ্টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভূমিকম্প থামানো সম্ভব নয়—কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমানো আমাদের হাতে। আর সেই প্রস্তুতিতে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি, তা প্রতিটি কম্পনই নতুন করে প্রমাণ করে দেয়।

বাংলাদেশ সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের ঠিক ওপরেই অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা চাপ বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। তবু দেশের বেশিরভাগ ভবন নির্মিত হয়েছে নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে; কোথাও মানা হয়নি প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, কোথাও নেই পর্যাপ্ত তদারকি। এ অবস্থায় রাজধানী ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প শহরগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

অন্যান্য দেশে ভবন বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, স্কুল-কলেজে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া থাকে, জনগণের জন্য সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এসব কার্যক্রম বেশিরভাগই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গড়ে উঠলেও তাদের কার্যকারিতা নির্ভর করে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম প্রাপ্তির ওপর—যা এখনও যথেষ্ট নয়।

ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কই সবচেয়ে বড় শত্রু। মানুষ জানে না কোথায় দাঁড়াবে, কীভাবে নিজেকে নিরাপদে রাখবে বা পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করবে। এই অজ্ঞতা প্রাণহানি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের ভূমিকম্প সচেতনতা শেখানো জরুরি। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনও নিয়মিত প্রচারণা চালাতে পারে।

এর পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী করতে হবে। দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা, পর্যাপ্ত ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, উন্নত সরঞ্জাম, নিরাপদ হাসপাতাল কাঠামো—সবকিছুই বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় অপরিহার্য। বড় শহরগুলোতে বিকল্প রাস্তা ও খোলা জায়গার অভাবও বিপদের মাত্রা বাড়ায়; সেজন্য নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।

ভূমিকম্প কখন হবে তা কেউ জানে না। কিন্তু প্রস্তুতি থাকা না থাকা—এটাই পার্থক্য গড়ে দেয়। আমরা যত বেশি দুর্বল প্রস্তুতি নিয়ে বসে থাকব, তত বেশি ঝুঁকি বাড়বে। এখনই সময় সরকার, বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে একসাথে কাজ করার।

ভূমিকম্প কোনো দূরের আতঙ্ক নয়—এটি বাস্তব ও আসন্ন । আর সেই অনিবার্যতার সামনে দাঁড়াতে হলে আমাদের প্রস্তুতই একমাত্র অবলম্বন। এখনই পদক্ষেপ না নিলে সামনের যেকোনো বড় কম্পন আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থার নির্মম মূল্য দিতে হবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD