শিরোনাম :
‘একসময় মধ্যপ্রাচ্যে’ সিনেমার বক্স অফিসে দ্রুত উত্থান ৫০০টি শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের পথে চীন ওয়াশিংটন-অটোয়া সমঝোতার আভাস, কানাডার পণ্যে শুল্ক স্থগিত জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধ, নর্ড স্ট্রিম তদন্ত, রাইনে নাব্য সংকট ও চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, বৃহস্পতিবার মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, আগস্টে প্রত্যাবাসন ৫১৪ পাঁচ মাস পর নতুন কমিশন পেল দুদক নবম জাতীয় বেতন স্কেল: সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ

শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারে জাতিসংঘের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ: বায়েরবক

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আনালিনা বায়েরবক ৮০তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। আর, ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল বেইজিংয়ে তিনি চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-কে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন।
এবার তাঁর চীন সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও বহুপাক্ষিকতা যখন নানা ধরনের চাপের মুখে, তখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হলো জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘের তিনটি মূল স্তম্ভ—শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবাধিকার সুরক্ষা করা। আমি আন্তঃআঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার আহ্বান জানাই, যাতে আমরা সম্মিলিতভাবে বহুপাক্ষিকতাকে রক্ষা করতে পারি। এ কারণেই আমি এবার চীন সফর করছি। চীন জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্যদের অন্যতম এবং বহুপাক্ষিকতার অন্যতম দৃঢ় সমর্থক।

পরিবেশ সংরক্ষণ ক্ষেত্রে চীনের অর্জিত সাফল্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা বিষয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি দেশের নিজস্ব উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুঃখজনকভাবে, কিছু দেশ প্যারিস চুক্তির জলবায়ু লক্ষ্য এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছে। কিন্তু জলবায়ু সংকট মানবজাতির সামনে সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি। তাই আমাদের অবশ্যই একযোগে কাজ করতে হবে, এবং আমি চীনে এসে সেই সহযোগিতার বাস্তব প্রতিফলন দেখেছি।

২০২৫ সালে পালিত হয়েছে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০তম বার্ষিকী এবং সংস্থার ভূমিকা ও সংস্কার নিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘ আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য জাতিসংঘের মতো কোনো কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান না-থাকত, তবে আমাদের এমন একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করতেই হতো। সত্যি কথা বলতে কি, জাতিসংঘের গভীর সংস্কার প্রয়োজন। আশির বেশি বয়সী একজন মানুষের মতোই একটি প্রতিষ্ঠানও শৈশব থেকে ধাপে ধাপে বড় হয় এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তিত ও পরিপূর্ণ করে। তবে যারা জাতিসংঘের সংস্কার এবং এর বিদ্যমান কিছু সীমাবদ্ধতাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাদের উদ্দেশে আমি একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—জাতিসংঘহীন পৃথিবী কখনোই আরও ভালো পৃথিবী হবে না। শুধু গত বছরই ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করেছে। জাতিসংঘ এবং ইউনিসেফের সহায়তা না-থাকলে, বিশেষ করে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে, আড়াই কোটিরও বেশি শিশু স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেত না। এমনকি, জাতিসংঘ না থাকলে, আমাদের প্রত্যেকেরই হয়তো বিমানে ভ্রমণ করতেও শঙ্কা হতো, কারণ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তাও জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তাই জাতিসংঘকে আরও শক্তিশালী করে তোলা আমাদের সবার যৌথ স্বার্থেই জরুরি।

২০৩০ উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে বায়েরবক বলেন, আমাদের কথার চেয়ে কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। এ কাজের মূল দায়িত্ব সদস্য-দেশগুলোর হাতেই রয়েছে। জাতিসংঘ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, দেশগুলোকে একত্রিত করে, যাতে তারা প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে।

এআই পরিচলনা ও প্রশাসন ব্যবস্থার গড়ে তোলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট বায়েরবক বলেন, জাতিসংঘই একমাত্র এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যা বিভিন্ন দেশের সরকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একত্রিত করতে পারে, যাতে তারা ঐকমত্যে পৌঁছাতে এবং একটি অভিন্ন বৈশ্বিক শাসন কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। যদি আমরা কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে না পারি যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হবে এবং সমাজের ক্ষতির কারণ হবে না, তবে তা সমগ্র মানবজাতির যৌথ স্বার্থের পরিপন্থী হবে। বর্তমানে এখনও একটি ডিজিটাল বৈষম্য বিদ্যমান; সব দেশ সমানভাবে প্রযুক্তিগত সম্পদে প্রবেশাধিকার পায় না এবং বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বাজারে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। তাই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও বহুপাক্ষিকতার সুরক্ষা করে আসছে চীন। এ বিষয়ে বায়েরবক বলেন, চীনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের শুধু ভেটো দেয়ার ক্ষমতাই আছে তা নয়, বরং তাদের জাতিসংঘের সনদ রক্ষার দায়িত্ব ও কর্তব্যও আছে।

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতাদের মূল উদ্দেশ্যও এটি ছিল—নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান ভূমিকা হলো শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং দ্বৈত মানদণ্ড পরিহার করা। যেকোনো দেশই আগ্রাসন চালাক না কেন, তার বিরুদ্ধে সমান ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। চীনসহ পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ এই প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি।

সূত্র:শিশির-আলিম-অনুপমা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD