আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে মাঠ প্রশাসনে পাঠান।
নির্দেশনায় বলা হয়, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে (ওসিভি ও আইসিভি) নিবন্ধিত ভোটার বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে ব্যালট পেপার মুদ্রণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালট মুদ্রণ ও প্রেরণ সম্পন্ন হয়েছে।
ইসি জানায়, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী বিজি প্রেস, গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে সরবরাহ করা হবে।
ব্যালট গ্রহণে ক্ষমতাপত্র বাধ্যতামূলক
নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসারের একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এবং নিজের একজন প্রতিনিধিকে ঢাকায় পাঠাবেন। ব্যালট পেপার গ্রহণকারী কর্মকর্তাকে অবশ্যই রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া লিখিত ক্ষমতাপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
প্রেসেই যাচাই ও ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ
সরকারি মুদ্রণালয় থেকে ব্যালট পেপার গ্রহণের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও ভোটার সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে বলা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকের তালিকা (ফরম-৫) সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের কথাও বলা হয়েছে।
পরিবহন ও সংরক্ষণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সরকারি মুদ্রণালয় থেকে জেলা, উপজেলা হয়ে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যালট পেপার, মার্কিং সিল ও অফিসিয়াল সিলের গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ব্যবহৃত ফরম, প্যাকেট, ম্যানুয়াল, পোস্টার ও অন্যান্য মুদ্রণ সামগ্রী নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্ট্যাম্প প্যাড, অফিসিয়াল সিল ও অমোচনীয় কালির কলমসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কোনো ঘাটতি বা অসংগতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
ভোটের আগের দিন কেন্দ্রে পৌঁছাবে ব্যালট
ইসি পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ভোটগ্রহণের আগের দিন নির্ধারিত সময়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি মালামাল গ্রহণ করবেন। একই দিনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সব ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাচনি সামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়ভাবে মনিহারী দ্রব্যাদি সংগ্রহ
বল পয়েন্ট কলম, কাগজ, প্ল্যাকার্ড ও দেয়ালপত্রসহ কিছু মনিহারী দ্রব্যাদি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ বা মুদ্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ইসির তফসিল অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।