দীর্ঘ দুই দশক পর বরিশালে এসে ব্যাপক জনসমাগমের মুখোমুখি হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বেলস পার্ক মাঠে তার আগমনের আগেই সমাবেশস্থল ভরে যায় সাধারণ মানুষের ভিড়ে। ঠিক ১২টা ৩০ মিনিটের কিছু পর মঞ্চে উঠতেই করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। অভিবাদন গ্রহণের পর তিনি শুরু করেন তার দীর্ঘ বক্তব্য, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল—নারীর মর্যাদা, স্বাধীনতা ও রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে কোনো দলের নাম উচ্চারণ না করলেও ইঙ্গিত করেন—একটি রাজনৈতিক দল নারীদের নেতৃত্ব কিংবা জনজীবনে অংশগ্রহণকে মেনে নিতে চায় না। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দলের এক শীর্ষ নেতা নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির বড় অংশ ধরে রেখেছে নারীরা—বিশেষ করে পোশাকশিল্প ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্মজীবী নারীরা। অথচ এদেরই লক্ষ্য করে হেয়মূলক মন্তব্য করা হচ্ছে, যা তার মতে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিকে অবমূল্যায়ন করার শামিল।
বক্তৃতায় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইসলামী ইতিহাসেও নারীর সম্মান ও নেতৃত্বের উদাহরণ রয়েছে। তিনি হজরত খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন—একটি দল যখন নির্বাচনের আগেই নারীদের ঘরে বন্দি রাখার মানসিকতা দেখায়, তখন তারা ক্ষমতায় গেলে কেমন আচরণ করবে, সেটি ভাবার বিষয়।
‘
সাম্প্রতিক নারীবিষয়ক বিতর্কে ডিজিটাল নিরাপত্তার অজুহাত নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা তারেক রহমানের মতে অবিশ্বাস্য। তার কথা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে বলেছেন, কথিত হ্যাকিংয়ের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি মন্তব্য করেন, “নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলতে এদের দ্বিধা নেই—দেশের স্বার্থে তারা কিছু করবে না।”
জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, দলটি ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে এবং প্রয়োজনে ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেয়।
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী—তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি গৃহিণীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। তার ভাষায়, নারীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া উন্নত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কল্পনাও করা যায় না।