আগামী বছরের ৫ বা ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণা হবে ডিসেম্বরে, ৪ অথবা ৭ তারিখে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে কমিশন।
ইসির একটি সূত্র জানায়, সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলে কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হবে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো দুই মেরুতে অবস্থান করছে। কেউ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার পক্ষে, কেউ আবার আলাদা করে আয়োজনের পরামর্শ দিচ্ছে।
এর আগে ৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—গণভোটের বিষয়বস্তু ও সময় নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। বৈঠকে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানান, যেন তারা দ্রুত ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেয়, যাতে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “যদি গণভোট করতেই হয়, সংসদ নির্বাচনের দিনেই করলে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।” তার মতে, এক দিনে দুই আয়োজন করলে প্রশাসনিক সমন্বয় সহজ হবে এবং ব্যয়ও কমবে।
ইতোমধ্যে ইসি ভোটকেন্দ্রের তালিকা ও ভোটার সংখ্যা চূড়ান্ত করেছে। দেশে এখন ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। ৩০০ আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্র ও ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি ও **বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)**কে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নির্বাচন-সংক্রান্ত সব আইন, বিধি ও আচরণবিধিও হালনাগাদ করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’ পদ্ধতিতে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার এ নির্বাচনে ১০ লাখের বেশি লোকবল নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন এবং প্রয়োজনে একই দিনে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনায় এগোচ্ছে ইসি।