পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জাহাজ জট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২০০টি জাহাজ নিরাপদ পারাপারের অপেক্ষায় অবস্থান করছে, যার মধ্যে অন্তত ৮০০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এই অচলাবস্থার কারণে প্রণালিতে যাতায়াত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় প্রায় ২০ হাজার নাবিক নির্দেশনার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য প্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এমন স্থবিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতিতে সংকট নিরসনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের একটি পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।
হোয়াইট হাউজ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইরানের সম্মতি এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্তে ইরান তাদের প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, চলমান সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার আমন্ত্রণে ১০ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনা কয়েক দিনব্যাপী চলতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সংলাপের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে।