বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা জানিয়েছেন, আগামী এক দশক বা তার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান ধারা বজায় থাকলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম হবে। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরির বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বাঙ্গার মতে, মহামারির পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তার ওপর চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সংঘাত পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি ত্বরান্বিত করতে নীতিগত বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যবসা শুরুর জটিলতা কমানো, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা হ্রাসের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও উৎপাদন খাতকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাড়বে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। বাঙ্গা সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও অভিবাসন সংকট আরও তীব্র হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।