একটি বিশ্বকাপে অংশ না নিলেই বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অতীতের নানা উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলেও কোনো দেশের ক্রিকেট কার্যক্রম থেমে যায় না।
বুধবার এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আবুল কালাম আজাদ এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে—বিশ্বকাপ খেলতে হলে তা ভারতেই খেলতে হবে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশকে একদিন সময় দেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, “অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে খেলেনি, নিউজিল্যান্ডও কানাডায় খেলতে যায়নি। এতে কি তাদের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে গেছে? হয়নি। সুতরাং বাংলাদেশ যদি একটি বিশ্বকাপে অংশ না নেয়, তাতে দেশের ক্রিকেটও বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।”
এদিকে, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানায়, বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আইসিসি বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না এবং বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে।
বিশ্বকাপ ঘিরে এই টানাপোড়েনের মধ্যে সরকারের অবস্থান ও ক্রিকেটারদের মতামত কতটা প্রভাব ফেলবে, সে দিকেই এখন নজর ক্রীড়ামোদী মানুষের।