শিরোনাম :
শিক্ষার অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউরোপের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আলোচনা ফেরদৌসী আহমেদের পদত্যাগ, শূন্য সংরক্ষিত নারী আসন ‘অপরচুনিটি কার্ডে’ জার্মানিতে চাকরি খোঁজার সুযোগ তাইওয়ান প্রণালির শান্তি রক্ষায় চীন-যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অভিন্ন রাখাইনে বিমান হামলায় নিহত ৫০, উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সি চিন পিংয়ের অর্থনীতিতে স্থিতিস্থাপকতা ও প্রাণশক্তির প্রশংসা জাপানের ঘোষিত পারমাণবিক নীতি মেনে চলার আহ্বান ৩৫তম বার্ষিকীতে চীন-ব্রুনাই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ভারতের সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন ককপিটে সংঘর্ষের পর ইসরায়েলের সব ফ্লাইট বন্ধ ফ্লাইদুবাইয়ের

মায়ের পায়েই হাঁটছে হৃদয়

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে ছেলে হৃদয়কে নিয়ে হলের দিকে যাচ্ছেন মা সীমা সরকার -ছবি: সংগৃহীত

শামস রহমান: মায়ের ভালোবাসার কাছে পৃথিবীর আর কোনো কিছুই তুলনা চলে না। মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সন্তান সব সময় নিরাপদ আর আলোর পথেই থাকে। একজন সচেতন ও শিক্ষিত মায়েই পারেন বদলে দিতে তার সন্তানের জীবনচিত্র। এমনি একজন মা সীমা সরকার। যিনি তার সন্তানের পায়ের পরিবর্তে নিজের দু’পাকে কাজে লাগাচ্ছেন। চলতে অক্ষম তার সন্তান হৃদয় সরকারকে আলোর পথে, জ্ঞানের পথে আর সম্ভাবনার পথে এগিয়ে দিতে নিরন্তন চেষ্টা করে যাচ্ছেন সীমা সরকার। সফলতার অালোও দেখছেন তিনি। তার সেই চলতে অক্ষম অদম্য মেধাবী সন্তানটি আজ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বলতে গেলে হৃদয় সরকারের সবই কৃতিত্ব মা সীমা সরকারের। অভিনন্দন এমন একজন মাকে। আসলে মায়ের ভালোবাসা তো এমনিই হয়…

মূল গল্প
গত মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধীনে খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল। সেখানে সীমা সরকারের সন্তান হৃদয় সরকার ১২০.৯৬ নম্বর পেয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

জানা যায়, বাবা সমীরণ সরকার ও মা সীমা সরকারের দুই সন্তানের মধ্যে হৃদয় সরকার বড়। জন্ম থেকেই অজ্ঞাত রোগে ভুগছে সে। চলাফেরা করতে পারেন না। তার হাতের সব আঙুলও কাজ করে না। কিন্তু চলাচলের কষ্ট হৃদয়কে বুঝতে দেননি বাবা-মা। জন্মের পর থেকেই হৃদয়কে নিজের কোলে করে বড় করেছেন মা সীমা সরকার। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, সবখানেই নিজেই কোলে নিয়ে গেছেন মা। এখানে জানিয়ে রাখি, ছোট থেকেই হৃদয় তার মায়ের কোলে চড়ে স্কুল-কলেজে আসা যাওয়া করত।

হৃদয় সরকার নেত্রকোনা জেলা স্কুল থেকে জিপিএ ৪.০৬ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। আবু আব্বাস ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে এইএসসি পাস করেন।

মায়ের কোলে চড়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে এলে হৃদয়ের একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। হৃদয়কে অনেকেই শুভকামনা জানান সামাজিক মাধ্যমে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর হৃদয় বলেন, ফলাফলের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। সেই ছোট থেকেই তিনি আমাকে কোলে করে স্কুল-কলেজে নিয়ে যান। তিনি আমাকে কোনোদিন হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে দেননি। যতদিন তিনি বেঁচে আছেন, যতদিন সামর্থ্যে কুলায়, তিনি আমাকে কোলে করেই নিয়ে যাবেন।

অদম্য হৃদয়ের এই ফলাফলে উচ্ছ্বসিত তার পুরো পরিবার। আমরাও তাকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি, ভালোভাবে তিনি পড়াশোনা শেষ করবেন। শুভকামনা হৃদয়। আর অভিনন্দন সীমা সরকার আপনাকে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD