শিরোনাম :
ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের আন্দোলনে ব্যাপক সংঘর্ষ: ২৯০ জন গ্রেপ্তার, ক্ষোভ ছড়িয়েছে ইউরোপজুড়ে চীন-ইউরোপ সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি: ধারাবাহিক আলোচনার আহ্বান ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গণিত গবেষণায় বিশেষ অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা চূড়ান্তভাবে খারিজ বিমানের নামে ভুয়া গুগল ফরমে নিয়োগের ফাঁদ:নিয়োগ প্রতারণা নিয়ে বিমানের জরুরি সতর্কবার্তা তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার রহস্যময় তরুণীর খোঁজ, বন্ধু দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে উত্তাল মিরপুর: পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ১০ নম্বর গোলচত্বর জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই, তবে রাজনৈতিক সমঝোতাই এর মূল শক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুবসমাজের মেধা বিকাশে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল: জাতীয় যুব দিবসে প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ অধিবেশনেই আসছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আইন: জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের আন্দোলনে ব্যাপক সংঘর্ষ: ২৯০ জন গ্রেপ্তার, ক্ষোভ ছড়িয়েছে ইউরোপজুড়ে

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয়বৃদ্ধি এবং দেশের জরাজীর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো ফ্রান্সে রাজপথে নেমেছেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এই বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর দফায় দফায় টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে এদিনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ, যার মধ্যে কেবল রাজধানী প্যারিসেই সমবেত হয়েছিলেন ৭০ হাজার বিক্ষোভকারী। তবে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্র জোটের দাবি—সমাবেশে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ এবং শুধু প্যারিসের রাজপথেই নেমেছিলেন প্রায় ২ লাখ মানুষ। প্যারিস ও লিয়ন শহরে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হলেও সমাপ্তিস্থলে ময়লার ডাস্টবিন ও রাস্তার আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর তা সহিংসতায় রূপ নেয়। আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার ঘটনাস্থল থেকে জানান, ভিড়ের মধ্যে পুলিশ প্রচণ্ড পরিমাণে টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে, যার ফলে সেখানে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

সহিংসতার বিষয়ে বাটলার উল্লেখ করেন, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার বিপক্ষে থাকলেও সরকারের একগুঁয়েমি ও উদাসীন মনোভাবকে দায়ী করেছেন। সাধারণ তরুণদের মতে, সরকারের ওপর জনগণের মৌলিক আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে মাস্ক পরিহিত কিছু ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে ফুটপাতের পাথর তুলে পুলিশের ওপর নিক্ষেপ করে এবং দাহ্য পদার্থ ছোড়ে। বিপরীতে দাঙ্গা পুলিশ লাউডস্পিকারে আরও টিয়ার গ্যাস ছোড়ার হুঁশিয়ারি দেয়। দেশজুড়ে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেস মোতায়েন করেছে সরকার। ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ হ্যালোইনের রাতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে আগেভাগেই সতর্কবার্তা দেন। এদিকে ব্যয় কমানোর পথ খুঁজতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এ সপ্তাহে ছাত্র ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, গত মাসে জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সংকট এবং বিতর্কিত ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রথম রাস্তায় নামেন, পরবর্তীতে যা শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সমর্থনে গণবিক্ষোভে রূপ নেয়; বিশেষ করে ১৭ অক্টোবরের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বিক্ষোভও ভয়াবহ দাঙ্গায় রূপ নিয়েছিল। ফ্রান্সের এই অসন্তোষ এখন জার্মানি, স্পেন ও ইতালিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD