অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রন গভর্নরেটজুড়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো তীব্র সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা ‘হেব্রন সাপোর্ট অ্যান্ড রিলিফ কমিটি’র দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লাগাতার অভিযান, সর্বাত্মক অবরোধ, সাধারণ মানুষের গাড়ি বাজেয়াপ্তকরণ এবং বাসিন্দাদের ওপর নির্যাতনের কারণে এলাকাটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৯ জনে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গভীর মধ্যরাতে সাঁজোয়া যানের বহর নিয়ে ফারশ আল-হাওয়া প্রবেশদ্বার দিয়ে নতুন একটি ইসরায়েলি সেনাদল হেব্রনে প্রবেশ করে। একই সময়ে বাহিনীর একাধিক দল শহরের দক্ষিণাঞ্চলের আবাসিক এলাকাগুলোতে ঢুকে পড়ে এবং তল্লাশির নামে বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি জব্দ করে নিয়ে যায়।
হেব্রনের গভর্নর খালেদ দুদিন চলমান পরিস্থিতির তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোর অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী এ পর্যন্ত অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। গভর্নর আরও বলেন, ‘সামরিক আগ্রাসনের মুখে ইতোমধ্যে ৪৫০টিরও বেশি পরিবার পুরোপুরি গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং পাঁচ শতাধিক আবাসিক বাড়িতে জোরপূর্বক তল্লাশি চালানো হয়েছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করতে পুরো অঞ্চলে ১২৮টি লোহার গেট বা ফটক এবং ১২০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী সেনাচৌকি স্থাপন করে হেব্রনকে বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।
এদিকে পশ্চিম তীরের পাশাপাশি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাতেও রক্তক্ষয়ী আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল ও আকাশপথে চালানো যৌথ হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসাসূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা