জাতীয় রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি বা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কা। একটানা সাত দিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর বৃহস্পতিবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের আদেশে তারা কারামুক্ত হন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নতুন দিল্লির একটি বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে হাজির হয়ে ওই দুই রাজনৈতিক নেতা ভবিষ্যতে কঠোরভাবে আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলা, জনশান্তি বজায় রাখা এবং যন্তর মন্তরের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন না করার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা দাখিল করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিননামার শর্তে তাদের মুক্তির নির্দেশ প্রদান করেন। তবে আদালত সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত থাকবে এবং আগামী শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে গত ১০ অক্টোবর প্রথম দফায় আন্দোলনের ডাক দিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন এই দুই নেতা। সে সময় শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেও মাত্র তিন দিনের মাথায়, গত ১৩ অক্টোবর, তারা যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ প্রধান ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যা মূলত প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছিল। এই ঘটনাকে পূর্ববর্তী মুচলেকার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে প্রসিকিউশন পক্ষ। এর প্রেক্ষিতে পরদিন অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর থেকে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
পরবর্তীকালে রিমান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির আদেশের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষ থেকে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল দায়ের করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্টও শুনানিকালে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনস্বার্থে শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই পুরো আইনি প্রক্রিয়া ও গ্রেপ্তারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, দলীয় নেতাদের কারাবাস অন্যায়ভাবে দীর্ঘায়িত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মূলত ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক কার্যক্রমের অভিযোগ এনে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেই সিজেপি এই লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
সূত্র: এনডিটিভি