শিশুদের ‘নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন শেরপুরের তরুণ শিশু সাংবাদিক ও শিশু অধিকারকর্মী জয়া বণিক। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার অধিকার সম্প্রসারণে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক এ সম্মাননার জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকায় জয়া বণিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শিশুদের অধিকার রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিবছর এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক শিশু সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন প্রতিবছর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের আয়োজন করে। বিশ্বব্যাপী শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের নেতৃত্বে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা তরুণদের কাজকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
জানা গেছে, গত চার বছর ধরে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন জয়া বণিক। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং শিক্ষাবঞ্চনার মতো দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। গ্রামপর্যায়ে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও শিশু অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি।
জয়া বণিকের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন পরিবারকে সচেতন করার কার্যক্রমও পরিচালনা করেছেন তিনি। শিশুদের শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধ, তাদের নিরাপদ বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার বিষয়গুলো তাঁর কর্মকাণ্ডে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
শিশু অধিকারবিষয়ক প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারেও সক্রিয় জয়া। ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে হাজারো মানুষের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তিনির্ভর এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু অধিকারবিষয়ক আলোচনাকে আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এই তরুণ অধিকারকর্মী।
অনলাইন কার্যক্রমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও বিভিন্ন কর্মশালা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন জয়া বণিক। এসব কার্যক্রমে শিশুদের সুরক্ষা, ইন্টারনেট ব্যবহারে নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি কাজ করছেন।
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জয়া বণিক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।’
আয়োজকদের মতে, শিশুদের অধিকার, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শিশু-কিশোরদের উদ্যোগ ও কার্যক্রমকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তুলতে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। এ পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুদের নেতৃত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে তাদের অবদানকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়।
শিশু অধিকার নিয়ে চার বছরের ধারাবাহিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জয়া বণিকের এ মনোনয়ন তাঁর কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।