শিরোনাম :
ফ্রাঙ্কফুর্টে নারায়ণগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের আনন্দঘন পিকনিক একীভূত আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ট্রাম্প, নীরব ডাবলিন–লন্ডন সাড়ে তিন মাস পানিহীন কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত কলোনি, উঠছে বৈষম্যের অভিযোগ ব্রিকস দেশগুলোর ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এআই উন্নয়ন বৈশ্বিক সহযোগিতার যৌথ সিমফনি হওয়া উচিত: আল-রাজ্জাজ মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ, তীব্র সমালোচনায় রাশিদা তলাইব দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে ভারতের ব্যবসায়ীদের চিঠি ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন, তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধন: আইনমন্ত্রী সার ব্যবস্থাপনা তদারকিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম চালু

ব্রিকস দেশগুলোর ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রোববার সকালে ভারতের নয়াদিল্লিতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ব্রিকস দেশগুলোর নেতাদের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে অংশ নেন এবং ‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শিরোনামে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষা করতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিগুলো সমুন্নত রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়ম যেন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয় এবং কোনো দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বহুপাক্ষিকতার নীতিতে জাতিসংঘের কর্তৃত্ব ও ভূমিকা রক্ষা করতে হবে, বহুপাক্ষিক সংস্থার সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন করতে হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়ন করতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও মতপ্রকাশের অধিকার আরও বাড়াতে হবে।

মানুষকে কেন্দ্র করে উন্নয়নের ধারণা অনুসরণ করতে হবে এবং জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে, ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত—উভয় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করতে হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু শাসনব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে এবং এমন একটি বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসন কাঠামো দ্রুত গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে উদীয়মান প্রযুক্তি যেন অভিন্ন সমৃদ্ধির পথে আলো জ্বালাতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্রিকস সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য সি চিন পিং পাঁচটি উদ্যোগ প্রস্তাব করেন।

প্রথমত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপেন-সোর্স ও সবার জন্য সুফল নিশ্চিত করার উদ্যোগ। চীন সবার আগে ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন গড়ে তুলবে। বৃহৎ ভাষা মডেলের উন্নয়ন ও প্রয়োগে সহযোগিতা সমর্থন করবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করবে এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ গড়ে তুলবে।

দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ উদ্যোগ। চীন ব্রিকস দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব করে। একটি স্মার্ট পোর্টাল স্থাপন করে নীতিগত সমন্বয় জোরদার করা এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। আগামী বছর চীন ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজন করবে এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করবে।

তৃতীয়ত, ডিজিটাল শিল্পে সহযোগিতা উদ্যোগ। চীন ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল শিল্প ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেবে। ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিল্প খাতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে যৌথভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ এগিয়ে নেওয়া হবে।

চতুর্থত, স্মার্ট উৎপাদন ব্যবস্থায় সহযোগিতা উদ্যোগ। চীন ব্রিকস দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা নির্মাণে সহায়তা করতে এবং অভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে যৌথভাবে উৎপাদনশিল্পের রূপান্তর ও আধুনিকায়ন এগিয়ে নেওয়া হবে।

পঞ্চমত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য প্রতিভা গড়ে তোলার উদ্যোগ। চীন ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাব করেছে। যৌথভাবে প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতার মানদণ্ডের পারস্পরিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে চীন ব্রিকস যুব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিনিময় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, যার মাধ্যমে আরও বেশি উচ্চমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিভা গড়ে তোলা হবে।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, এ বছর চীনের “পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা” বাস্তবায়নের সূচনাবর্ষ। এই পরিকল্পনা শুধু চীনের নিজস্ব উন্নয়নের পরিকলপনা নয়, বরং বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত সহযোগিতার সুযোগের তালিকা।

চীন উচ্চমানের উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে, উচ্চমানের উন্মুক্তকরণ আরও সম্প্রসারিত করবে, বিশ্ব উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে এবং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নেবে।

চীন বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুযোগ ভাগাভাগি, সমৃদ্ধি সৃষ্টি এবং যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চায় এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ঐক্য ও আত্মনির্ভরতার নতুন অধ্যায় একসঙ্গে রচনা করতে চায়।

সূত্র: শুয়েই, তৌহিদ, জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD