শিরোনাম :
ফ্রাঙ্কফুর্টে নারায়ণগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের আনন্দঘন পিকনিক একীভূত আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ট্রাম্প, নীরব ডাবলিন–লন্ডন সাড়ে তিন মাস পানিহীন কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত কলোনি, উঠছে বৈষম্যের অভিযোগ ব্রিকস দেশগুলোর ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এআই উন্নয়ন বৈশ্বিক সহযোগিতার যৌথ সিমফনি হওয়া উচিত: আল-রাজ্জাজ মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ, তীব্র সমালোচনায় রাশিদা তলাইব দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে ভারতের ব্যবসায়ীদের চিঠি ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন, তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধন: আইনমন্ত্রী সার ব্যবস্থাপনা তদারকিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম চালু

এআই উন্নয়ন বৈশ্বিক সহযোগিতার যৌথ সিমফনি হওয়া উচিত: আল-রাজ্জাজ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জর্ডানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওমর আল-রাজ্জাজ সম্প্রতি চায়না মিডিয়া গ্রুপকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

তিনি বহুবার চীন সফর করেছেন এবং চীনের সার্বিক উন্নয়ন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন: ‘চীনের সর্বাত্মক উন্নয়ন সত্যিই বিস্ময়কর—সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ সব ক্ষেত্রে তারা সুসংহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঘোষিত ‘চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগের’ ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন: ‘প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং অত্যন্ত দূরদর্শী; তিনি বিশ্বশান্তি ও সহাবস্থানের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বমঞ্চে এই ধরনের নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন।’

চীনের স্থানীয় শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক সেবা মডেলও তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বেইজিংয়ের ‘১২৩৪৫ সিটিজেন সার্ভিস হটলাইন’ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর তিনি মন্তব্য করেন: ‘এই প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা পদ্ধতি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। আমি মনে করি চীনের উচিত এই অনন্য অভিজ্ঞতা বিশ্বমঞ্চে সবার সঙ্গে শেয়ার করা।’

ওমর আল-রাজ্জাজ বলেন: ‘বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি সাধারণ সংকট দেখা যাচ্ছে—পাশ্চাত্যের দেশ হোক কিংবা উন্নয়নশীল দেশ, সর্বত্রই সাধারণ নাগরিকরা মনে করেন যে, তাদের মৌলিক চাহিদা ও দাবির প্রতি সরকারগুলো পর্যাপ্ত সাড়া দিচ্ছে না। বিশেষ করে জনসেবা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মতো নাগরিক কল্যাণমূলক খাতে এই অসন্তোষ বেশি।

আমি যখন প্রথম চীনে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে আসি, তখন ‘১২৩৪৫ সিটিজেন সার্ভিস হটলাইন’ সেন্টার সম্পর্কে জানতে পারি। বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়া, রাস্তার কোথাও গর্ত তৈরি হওয়া বা জীবনযাত্রার মান ব্যাহত করে এমন যেকোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে নাগরিকরা সরাসরি এই নম্বরে ফোন করতে পারেন। অনেক দেশেই এই ধরনের হটলাইন সার্ভিস রয়েছে, তবে সেগুলো মূলত ‘৯১১’-এর মতো কেবল জরুরি সেবায় সীমাবদ্ধ। অথচ চীনের ‘১২৩৪৫’ সেবাটির পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত—দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো সাধারণ সমস্যাতেই নাগরিকরা নিশ্চিন্তে এই নম্বরে কল করতে পারেন।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনায় চীনের অবস্থান ও নীতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীন ইতোমধ্যে বিশ্বের নেতৃত্বস্থানীয় স্থানে পৌঁছে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে অত্যন্ত কার্যকর ও অত্যাধুনিক এক প্রযুক্তি।

চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এক অত্যন্ত চমৎকার ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ কোনো একক দেশের “একক সুরের একক সঙ্গীত” হওয়া উচিত নয়; বরং এটি হওয়া উচিত পুরো বিশ্বের “যৌথ ঐকতানের মহাজাগতিক সিমফনি”।’ চীন চায় বিশ্বের সকল দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষা করুক এবং যৌথ সমৃদ্ধি অর্জন করুক।

আল-রাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ‘চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ’ প্রস্তাব করেছেন, যা বিশ্ব সভ্যতার সংলাপ জোরদার, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দূরদর্শী চিন্তাধারা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব সহাবস্থানের পথ দেখিয়েছে। বিশ্বের আজ এমন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রয়োজন এবং সমমনা বহু দেশ ইতোমধ্যেই তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সাড়া দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারের সমাপনীতে আল-রাজ্জাজ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চীন তাদের হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রবৃদ্ধির যেভাবে সমন্বয় ঘটিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর মতে, নাগরিক সেবা ও ডিজিটাল গভর্নেন্স খাতে চীনের অর্জিত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয়। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গ্লোবাল গভর্নেন্সে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে বলেন—‘এআই-এর বিকাশ একক কোনো দেশের একক পরিবেশনা নয়, বরং বৈশ্বিক সহযোগিতার এক যৌথ সিমফনি’—এই নীতি অত্যন্ত দূরদর্শী এবং বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবার খোরাক জোগায়।

সূত্র: শুয়েই, তৌহিদ, জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD