রাষ্ট্র ও সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ। তাই পরিবর্তনের এই ধারাকে বাস্তব রূপ দিতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং প্রদর্শিত আলোকচিত্র পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন কখনো থেমে থাকে না। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রায় প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জনগণকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পরও যদি পরিবর্তনের দাবিতে তরুণদের রক্ত ঝরাতে হয়, তবে সেটি জাতির জন্য গভীর আত্মসমালোচনার বিষয়।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রশাসনিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনবিমুখ মনোভাব ও পুরোনো ধ্যানধারণার উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন প্রতিটি নাগরিক সততা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিশোধের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য, সুশাসন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলেই জুলাইয়ের চেতনাকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে জনগণ অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তাই জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।